নগর দেখলো মাতলো ক্ষুদে মেয়ে ফুটবলাররা

আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২০, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের রংপুর ও কিশোরগঞ্জ দলের খেলোয়াড়রা রাজশাহী নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেছে। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় তারা নগরী ঘুরে দেখে। সবুজ নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার এমন সুযোগ করে দেয়ায় সিটি মেয়রের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা তাদের অনুভূতি ব্যাক্ত করেন।
কিশোরগঞ্জ দলের খেলোয়াড় সুস্মিতা খান বলেন, আমরা এর আগে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় খেলতে গিয়েছি। কিন্তু রাজশাহী শহরটা আসলেই অনেক সুন্দর। এখানকার মানুষরাও অনেক ভালো। আজকে আমাদেরকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমন সুযোগ এর আগে আমরা পাইনি। এটি আমাদের সবার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। অন্য শহরের থেকে রাজশাহী শহরটি অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আর আজকে এভাবে ঘুরে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে। আর এখানে যারা আছে আমাদের দেখা শোনার জন্য তারাও অনেক ভালো। সব মিলিয়ে আমাদের ভালোই দিন কাটছে।
কিশোরগঞ্জের আরেক জন খেলোয়াড় স্বর্ণা আক্তার বলেন, আমি তিন বছর থেকে ফুটবল খেলছি। তবে এতটা ভালো কোথাও লাগে নি যতটা রাজশাহীতে লেগেছে। আমাদের সবারই মন জয় করেছে আয়োজকরা। তাদের ব্যবহার অনেক ভালো। রাজশাহী শহর সুন্দর ও অনেক পরিচ্ছন্ন। এখানকার সব জিনিসই আমার ভালো লেগেছে তবে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানটি বেশি ভালো লেগেছে। এই শহরটি অনেক প্রাচীন নিদর্শনকে সংরক্ষণ করে চলে।
রংপুর দলের খেলোয়াড় খাদিজা আক্তার বলেন, আমরা নানা প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে এমন একটি জায়গায় উঠে এসেছি। রাজশাহী শহরে আগে কখনো আসা হয়নি। এবারই প্রথম এসেছি। ঘুরে অনেক ভালো লেগেছে।
একই দলের সুরভী আক্তার সীমা বলেন, গত দুই বছর থেকে আমি খেলছি। তবে আমি অনেক ছোট থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। আমার কাছে রাজশাহী শহর অনেক ভালো লেগেছে। আজকে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। তার মধ্যে রাজশাহী কলেজ অনেক ভালো লেগেছে। এছাড়া যারা ম্যানেজমেন্টে আছে তাদের ব্যবহারও অনেক ভালো।
কিশোরগঞ্জ দলের কোচ চয়ন দত্ত বলেন, খেলাধুলার সুবাদে আমার অনেক শহরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। অন্য শহরগুলো আর রাজশাহীর মধ্যে অনেক পার্থক্য আমি দেখতে পাই। গত ৮ বছরে এই রাজশাহীতে আমি এসেছি। এবং প্রতিবারই আমি মুগ্ধ হয়েছি। শহরটি যেমন সুন্দর তেমনি এখানের মানুষগুলোও ভালো। যেন আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। আমরা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এ ঘুরেছি। ওখানেও সবাই আমাদের অনেক খেয়াল করছিলো যা আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।
রংপুর দলের ম্যানেজার নাসরিন আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘ ৪ বছর থেকে খেলছি। রংপুরের বাইরেও অনেক জায়গায় আমি খেলেছি। তবে রাজশাহী শহরে এটি আমার প্রথম আসা। প্রথম আসাতেই রাজশাহী শহরটি অনেক ভালো লেগেছে। স্টেডিয়াম অনেক সুন্দর। আজকে ঘুরে অনেক জায়গা দেখলাম যার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। যা আমি অন্য কোন শহরে দেখিনি। খেলোয়াড়দেরকে এইভাবে বাইরে নিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে। এছাড়া এখানে
যারা আছে তারা সবাই দায়িত্ব সহকারে আমাদের খেয়াল রাখছেন। আমাদের আসাতে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিলো, সেইসব প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে আমরা এখানে আসতে পেরেছি। এখানে যারা আছে তাদের ব্যবহারও অনেক ভালো।
জেএফএ অনূর্ধ্ব ১৪ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের মিডিয়া ম্যানেজার জিয়া হাসান আজাদ হিমেল জানান, আসলে এসব হলো দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। এখানে তারা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। গঠন অনুযায়ী দেশি-বিদেশি চিন্তা ধারার প্রকাশ পায়। তাদেরকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যই হলো তাদেরকে আনন্দ দেয়া। সংগঠক হিসেবে সাফল্য তুলে ধরা। রাজশাহী নগরীকে তাদের সামনে তুলে ধরা। আজকে (২৮ নভেম্বর) আমরা রংপুর এবং কিশোরগঞ্জ দলকে রাজশাহী শহরের প্রধান ফটকগুলো যেমন, রাজশাহী মেডিকেল ক্যাম্পাস, ঐতিহ্য চত্ত্বর, নগর ভবন, রাজশাহী সেরিকালচারাল, ভদ্রা, রুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী কলেজ, জাদুঘর, শহিদ কামারুজ্জামান উদ্যান এবং পদ্মাপাড় ঘুরিয়ে দেখিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, এইভাবে নিয়ে যাওয়ায় তারা এক দল অন্য দলের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছে। এইভাবে ঘুরতে পেরে খেলোয়াররা অনেক আনন্দিত হয়েছে। আমাদের এই কাজকে তারা সদরে গ্রহণ করছে। এবং এত সুন্দর ব্যবস্থা করার জন্য সিটি মেয়রকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে।