রাজশাহীর দুরন্ত জয়

আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০১৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
শেষ ওভারে প্রয়োজন ৯ রান। বোলার ইংল্যান্ডের ম্যাট কোলস। ব্যাটসম্যান আবুল হাসান রাজু আর ফরহাদ রেজা। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ হারের ঘটনা রয়েছে রাজশাহী কিংসের। কিন্তু সব বোলার তো আর মাহমুদউল্লাহ নয়। সুতরাং, প্রত্যাশা করার মতো কারণ ছিলো রাজশাহীর।
সেই আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়ে কোলসের প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলেন আবুল হাসান রাজু। খুলনার বিপক্ষে সেই পরাজয়ের ম্যাচটির স্মৃতিই উঁকি দিচ্ছিল তখন। এ সময়ই মাঠে নামেন তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ। নেমেই এক রান নিয়ে স্ট্রাইকে পাঠালেন অভিজ্ঞ ফরহাদ রেজাকে।
পরের বলেই বাউন্ডারি মেরে দিলেন ফরহাদ রেজা। শেষ তিন বলে প্রয়োজন ৪ রান। এ সময় ফরহাদ রেজা লং অফে খেলেন। দৌড় শুরু করেন মিরাজ। বাধ্য হয়ে ফরহাদ রেজাও দৌড় দিলেন; কিন্তু তিনি রানটি নিতেই চান নি। কেন নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে মিরাজ তাকে পাঠিয়ে দিলেন এ জন্য এক পশলা রাগও ঝড়ালেন ফরহাদ রেজা।
তিনি তো জানতেন মিরাজ শুধুই বোলার নন, একজন ব্যাটসম্যানও। ক্রিকইনফোর কমেন্টারিতে ওই সময় লেখা হলো, ‘এবারের বিপিএলে এটাই হলো বড় সমস্যা। একজন ভালো ফিনিশার কেউ পেলো না। বড় বড় অনেক ইনিংস খেলা হলো; কিন্তু কেউ সেই ইনিংস দিয়ে ম্যাচকে সমাপ্তি এনে দিতে পারলেন না।’
এমন কথা বলতে না বলতেই ম্যাট কোলসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট হাতে সুযোগ কম পান। কিন্তু একটু সুযোগ পেয়েই রাজশাহীকে অসাধারণ এক জয় উপহার দিলেন ১৯ বছর বয়সের এই যুবা।
ঢাকা ডায়নামাইটসের করা ১৮২ রানের জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রান করলো রাজশাহী কিংস। ৩ উইকেটে ঢাকাকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের টিকিয়ে রাখলো সাব্বির-মিরাজদের দল রাজশাহী কিংস।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতেই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাঙ্গাকারার ৬৬ রানের ওপর ভর করে রাজশাহীর সামনে ১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয় ঢাকা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই জুনায়েদ সিদ্দিকী আর সাব্বির রহমানের উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে রাজশাহীর কিংসরা। ১২ রানে জুনায়েদ এবং ৩১ রানের মাথায় আউট হন সাব্বির।
এরপরই জুটি বাধেন মুমিনুল আর সামিত প্যাটেল। এ দু’জনের ব্যাট থেকে এলো ১০০ রানের অনবদ্য এক জুটি। ৩১ থেকে দলকে ১৩১ রানে নিয়ে গিয়ে আউট হন মুমিনুল। ৪২ বলে ৫৬ রান করেন তিনি ৮টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায়।
মুমিনুলের পর হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সামিত প্যাটেলও। ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করার পর তিনি ৩৯ বলে করেন ৭৫ রান। এ সময় সাকিব আল হাসানের বলে বোল্ড হন তিনি। এ সময় দলের রান ৪ উইকেটে ১৫৪। ১৬ ওভারের খেলা চলছিল।
এ সময়ই ভোজভাজির মত পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। উমর আকমল ৬ বলে ১২ রান করলেও একের পর এক উইকেট পড়া শুরু হয় রাজশাহীর। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ৯ রান এবং শেষ মুহূর্তে ফিনিশার মিরাজের দারুণ বাউন্ডারিতেই জয় ধরা দেয় রাজশাহীর হাতে। তবে এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ হেরে গেলো সাকিব আল হাসানের ঢাকা। ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে যদিও তারা এখনও রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ডোয়াইন ব্র্যাভো (৩ উইকেট) এবং মোহাম্মদ শহীদ (২ উইকেট) ভালো বোলিং করলেও পরাজয় ঠেকাতে পারে নি তারা।