রাজশাহীর নির্বাচনে সংঘাত বাড়ছে

আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

প্রার্থীদের সহিষ্ণু আচরণ দরকার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনের প্রত্যেকটিতেই জোর প্রচার-প্রচারণা চলছে। সর্ব-আড্ডায় নির্বাচনের ইস্যুই আলোচনার মূল বিষয়। এ আলোচনার ঝড় শহরে ও গ্রামের সর্বত্রই চলছে। ভোটারদের কৌতুহল ও উদ্দীপনা আছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থীরা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। ফলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের নির্বাচনি অফিস ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং কর্মি-সমর্থকদের মারপিটের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘর্ষ বা সন্ত্রাসের ঘটনা নির্বাচনি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এটা অনাকাক্সিক্ষত, ভোটারদের কাছে প্রত্যাশিত নয়। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী-২ ও রাজশাহী-৩ আসন ছাড়া বাকি চারটি আসনে উত্তেজনা আছে, অপ্রীতিকর ঘটনা একের পর এক ঘটছেই। প্রার্থীর সমর্থকরা জড়িয়ে যাচ্ছে দ্বন্দ্বে। সংঘর্ষে ঝরছে রক্তও।

করছে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। প্রচারণায়ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, অফিসে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, হাতুড়িপেটা করাও হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদাগারও বাড়ছে। যতদিন যাচ্ছে ততই উত্তেজনাকর হয়ে উঠছে নির্বাচনি পরিবেশ। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আর দশদিন পরেই কাক্সিক্ষত ভোটগ্রহণ হবে। কিন্তু এই ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে সকলেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা বাঞ্ছনীয়। নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির একার পক্ষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব হবে না। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অবশ্যই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সাধারণ ভোটাররা ভীত-সন্ত্রস্ত হলে অংশগ্রহণমূলক ভোটগ্রহণ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। এবং সেটি নির্বাচনি ব্যবস্থার জন্য মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। বরং এই মানসিকতাই প্রার্থীদেরই নিশ্চিত করতে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ করার মানসিকতা দরকার। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন তার নিশ্চয়তা প্রার্থীদেরই দিতে হবে।