রাজশাহীর ১.৬০ লাখ বস্তিবাসী অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন করছে

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


মহানগরীর ৩৫ হাজার ৬৪০ দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারের এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি লোক বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করছে এবং তারা তাদের বর্তমান সাফল্যময় জীবন উপভোগ করছেন।
দারিদ্র্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের লড়াই করা পরিবারগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে আয়বর্ধক কার্যক্রম গ্রহণ করে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার অর্জন করেছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার বলেন, দারিদ্র্য বিরোধী প্রকল্পের অধীনে ১০২ কমিউনিটি উন্নয়ন কমিটি (সিডিসি) গঠনের মাধ্যমে এইসব বস্তিবাসীদের অর্থ-উপার্জন কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
এর আগে, তারা এক হাজার ১২২টি প্রাথমিক গ্রুপ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে গঠন করেছে এবং ক্ষুদ্র আকারের ব্যবসা, কৃষি, হাঁস-মুরগি পালনের মতো কাজের জন্য তাদের নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রকৌশলী তুষার বলেন, কিছুদিন আগে জীবন ও জীবিকার উন্নতির জন্য তাদেরকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
নগরীর মেহেরচান্দি পূর্বপাড়া বস্তির রেহেনা শারমিন (২৪) দারিদ্র্যের কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। রেহেনা ছিলেন চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ।
প্রাথমিক পর্যায়ে রেহেনা ১২ হাজার পাঁচশ’ টাকা ঋণ নেয় হাঁস-মুরগি পালনের জন্য। তার আন্তরিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে সে এখন একটি হাঁস-মুরগি ও ডেইরি খামারের মালিক। সেই সঙ্গে তার ভিটেমাটিতে একটি বাগানও আছে।
শারমিন বাসসকে বলেন, তিনি টেকসই আর্থ-সামাজিক ও জীবিকার উন্নয়নের দিক সম্বন্ধে সচেতনতা অর্জন করেছেন।
এছাড়া, শারমিন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন। এতে তার পরিবার খুব খুশি।
শারমিন সঞ্চয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন লাভজনক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন।
শারমিন নেতৃত্বে মেহেরচান্দি পূর্বপাড়া সিডিসি সঞ্চয়ীতে তিন লাখ ৭৬ হাজার টাকা সংযোজিত হয়েছে। এছাড়া সিডিসি হাঁস-মুরগি পালন, ডেইরি, ভিটে বাড়িতে বাগান ও উদ্যানসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকা-ের জন্য তাদের সদস্যদের জন্য ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ক্রেডিট বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র আকারের আয়বর্ধক-কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে সিডিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
শারমিন তিনটি গবাদি পশুর মালিক। তিনি দুধ ও সবজি বিক্রি করে প্রতিমাসে তিন হাজার পাঁচশ’ টাকা উপার্জন করছেন।
গৃহিণী নাসরিন বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন করতে ‘আমরা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার, টাটকা শাক-সবজি খাচ্ছি, নিরাপদ পানি পান করছি ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়েরা এখন স্কুলে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, নারীদের যদি ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল থাকে তাহলে পুরুষের পাশাপাশি তারাও দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সবকিছু করতে পারেন।
পবা উপজেলার রিকশাওয়ালার স্ত্রী ফেরদৌসী (২৫) খড়ের বাড়িতে বাস করতেন। জানতেন না কিভাবে দারিদ্র্য নির্মূল করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি তার বাড়িতে সবজি ও ফলের চাষাবাদ করছেন।
এখন তিনি গরু মোটাতাজাকরণ, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি বাগানের মতো বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ-উপার্জন করছেন।
চার কন্যার মা ফেরদৌসী এখন টিনের বাড়িতে স্বামীসহ সুখী জীবনযাপন করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ