রাজশাহীর ৬টি আসনে ২৩ জনের মনোনয়ন অবৈধ, বৈধ ৩৭

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনে ৬০টি প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন।

রোববার (৩ ডিসেম্বর) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাছাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানানো হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী ৬টি আসনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ এই ঘোষণা দেন। এর মধ্যে জাল স্বাক্ষর, ঋণখেলাপি, তথ্যে ভুল, তালিকা অসম্পূর্ণ আছে। তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় অধিকাংশ প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী-১ আসনে চারজনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানী, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপ কমিটির সদস্য আয়েশা আক্তার ডালিয়া ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার নিপা (মাহিয়া মাহি)। তারা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এই আসনে।

মনোনয়ন অবৈধ হওয়ায় আপিল করবেন সবাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়েশা আক্তার ডালিয়া বলেন, আপিলের সুযোগ আছে। আমি আপিল করবো। আমার তথ্যে গড়মিল থাকার কথা না। শুনানি হওয়ার পর জানা যাবে বৈধ না অবৈধ।

একই কথা বলেছেন চিত্রনায়িকা শারমিন আক্তার নিপা (মাহিয়া মাহি)। তিনি বলেন, আমি আগেই থেকেই জানতাম আমার মনোনয়ন বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে কিছু বলবো না। আমি আপিল করবো।

মনোননয় বৈধ হয়েছে যাদের তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, তৃণমূল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জামাল খান দুদু, বিএনএম প্রার্থী শামসুজ্জোহা, বিএনএফ প্রার্থী আল সাদ, এনপিপি প্রার্থী নুরুনন্নেন্সা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রার্থী বশির আহমেদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

রাজশাহী-২ থেকে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ কর্মী অ্যাড. আবু রায়হান মাসুদ, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ কর্মী রেজাউন নবী আল মামুন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, ও সাবেক মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। এরাও সবাই স্বতন্ত প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী মো. শামীমের। তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার হলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, মহানগর জাসদ সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী, জাতীয় পার্টির মহানগর আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম স্বপন, বিএনএম প্রার্থী কামরুল হাসান, মুক্তিজোটের প্রার্থী ইয়াসির আলিফ বিন হাবিব, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মারুফ শাহরিয়ার।

রাজশাহী-৩ আসনে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন অবৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, গণফ্রন্টের প্রার্থী মনিরুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী নিপু হোসেন ও শাহাবুদ্দিন বাচ্চু, এনপিপির প্রার্থী সইবুর রহমান ও মুক্তিজোটের প্রার্থী এনামুল হক।

রাজশাহী-৩ থেকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়েন উদ্দিন, বিএনএম প্রার্থী মতিউর রহমান মন্টু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলায়মান হোসেন, আরেক প্রার্থী আবদুস সালাম, বিএনএফ প্রার্থী বজলুর রহমান।

রাজশাহী-৪ আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবুল হোসেন। এনপিপি প্রার্থী জিন্নাতুন ইসলাম জিন্নাহ, বিএনএফ প্রার্থী মতিউর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তালেব প্রামানিক।

এই আসনে বৈধরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক, বিএনএম প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রায়হান।
রাজশাহী-৫ থেকে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ ও জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ওবায়দুর রহমান। এ দুজনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।

মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মনোনীত প্রার্থী কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মনসুর রহমান, গণফ্রন্টের প্রার্থী মোখলেসুর রহমান, বিএসপি প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, জাকের পার্টির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, বিএনএম প্রার্থী শরিফুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির আবুল হোসেন।

রাজশাহী-৬ আসনে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে দুই প্রার্থীর। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী খায়রুল ইসলাম ও ইসরাফিল বিশ^াস।
এই আসনে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হানুল হক, জাসদ প্রার্থী জুলফিকার মান্নান জামি, এনপিপি প্রার্থী মোহসীন আলী, জাকের পার্টির প্রার্থীর রিপন আলী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামসুদ্দিন রিন্টু, বিএনএম প্রার্থী আবদুস সামাদ।

রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, আগে কখনও নির্বাচিত হননি, আবার দলীয় প্রার্থীও নন এমন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে মনোনয়ন-পত্রের সাথে সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। তারা প্রার্থীদের দেওয়া এই স্বাক্ষর থেকে ১০ জন করে ভোটারের তথ্য যাচাই করেছেন। এতে কারও কারও তালিকায় গড়মিল পাওয়া গেছে। আবার কারও মামলা কিংবা ঋণসংক্রান্ত সমস্যা আছে। সেই কারণে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য ৩৭টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে ৬ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বৈধ প্রার্থীরা ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ