রাজশাহীসহ বিভাগের ৩ জেলা ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা *সারাদেশের ৭টি জেলা ও ১৫৯টি উপজেলাকে গৃহহীন-ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২৩, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীসহ বিভাগের ৩ টি জেলা ও ৩২ উপজেলাসহ দেশের মোট ৭টি জেলা ও ১৫৯টি উপজেলাকে গৃহহীন-ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইদের আগে গৃহহীনদের হাতে বিনামূল্যে আরও মোট ৩৯ হাজার ৩৬৫ আধাপাকা বাড়ি হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (২২ মার্চ) তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ ধাপে রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ মাদারীপুর, গাজীপুর, নরসিংদী ও চুয়াডাঙ্গা জেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেছেন, ভূমিহীনদের ঘর দেওয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। জাতির পিতা দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করে বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন দিতে চেয়েছিলেন। যার জন্য তার সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। প্রত্যেক ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা তার সরকারের লক্ষ্য হওয়ায় তিনি প্রত্যেককে বাড়ি দেবেন। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ বাড়ি, আশ্রয় এবং জীবিকার সুযোগ পাবে। তারা আর সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না। আমরা চাই প্রত্যেকে নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং যথাযথ সম্মানের সাথে বসবাস করবে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে গৃহহীনদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেন। তার সরকার ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বাড়িঘর ও জমির মালিকানা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

এদিকে, বুধবার (২২ মার্চ) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ উপজেলার উপকারভোগী ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে জমির দলিলসহ ঘরের ‘প্রতীকী চাবি’ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মো. সোহেল রানা, দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র সাজিদুর রহমান মিঠু।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতাধীন চতুর্থ পর্যায়ে দেশের সাতটি জেলা ও ১৫৯টি উপজেলাকে সম্পূর্ণরূপে ভূমি ও গৃহহীনমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এরমধ্যে এই বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলাসহ ৩২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হলো।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে দেশে প্রথম ভূমিহীনদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে পুনরায় জমি ও ঘরের মালিকানা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষে দেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না বলে ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।

রাজশাহী বিভাগে ৪র্থ পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলাগুলো হলো, রাজশাহী জেলার পবা, গোদাগাড়ী, তানোর, দুর্গাপুর, পুঠিয়া এবং বাগমারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও নাচোল। জয়পুরহাটের জয়পুরহাট সদর, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল। বগুড়ার কাহালু, ধুনট, শাজাহানপুর, সোনাতলা ও শিবগঞ্জ। নওগাঁর ধামইরহাট, মহাদেবপুর ও পত্নীতলা। সিরাজগঞ্জের সদর, উল্লাপাড়া, কাজিপুর ও রায়গঞ্জ। পাবনার সদর, আটঘরিয়া ও সাঁথিয়া। নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম ও লালপুর।

উল্লেখ্য, এর আগে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৩০টি এবং তৃতীয় ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি বাড়ি হস্তান্তর করেন। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের চতুর্থ ধাপে ৩৯,৩৬৫টি ঘর বিতরণের মাধ্যমে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে মোট গৃহ বিতরণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,১৫,৮২৭ টি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭,৭১,৩০১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৮,৫৬,৫০৫ (আনুমানিক একটি পরিবারে পাঁচজন হিসাবে)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ