রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দেবে মিটারগেজ রেলপথ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

আপডেট: January 14, 2021, 12:15 am

রাজশাহী অঞ্চলে নেই বড় কোন শিল্প কারখানা। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত উন্নত হবে এখানকার অর্থনীতি ততই সমৃদ্ধ হবে। টেকসই উন্নয়ন বান্ধব বর্তমান সরকারের মিটারগেজ রেলপথ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী এ যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন হলে রাজশাহী অঞ্চল এগিয়ে যাবে।
গতকাল সোনার দেশে ‘১০৪ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ বদলে দিবে রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনীতি’-এই শিরোনামের প্রধান প্রতিবেদনে জানানো হয়, মিটারগেজ রেলপথের সুবিধা থাকলে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রাজশাহীতে কন্টেনারে পণ্য আনা-নেয়া করা সম্ভব হতো। এ প্রকল্প বাস্তবায়ণ হলে স্বল্প খরচে রাজশাহীর কৃষি পণ্য বিদেশেও পাঠানো যাবে। দেশের প্রায় সর্বত্র মিশ্র গেজ রেলপথ চালু আছে। শুধু পশ্চিম রেলওয়ের নাটোরের আবদুলপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ ও মিটারগেজ রেললাইন রয়েছে। আবদুলপুরের পরে রাজশাহী ও জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ব্রডগেজ থাকলেও নেই মিটারগেজ লাইন। তাই এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য ও আম পরিবহনে উচ্চ ভাড়ায় কুরিয়ারে ধর্না দিতে হয়। মিটারগেজ রেললাইন হলে রাজশাহী-চট্টগ্রামের মধ্যে ব্যবসায়ী যোগাযোগ সহজ হবে। এ অঞ্চলের উন্নতির জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারকে মিটারগেজ রেলপথ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এই প্রতিবেদনের আরও জানানো হয়, নাটোরের আবদুলপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পর্যন্ত ১৫টি স্টেশন মিলে ১০৪ কিলোমিটার পথ। আবদুলপুর থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সাতটি স্টেশন মিলে ৪২ কিলোমিটার পথ। এই পথের স্টেশনগুলোর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিয়ান, সরদহ, নন্দনগাছী, আড়ানী ও আবদুলপুর। এছাড়া রাজশাহী স্টেশন থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার। আর রাজশাহী থেকে রহনপুর পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার। রাজশাহী ও রহনপুরের পথে আটটি স্টেশন। এগুলো হলো- কোর্ট স্টেশন, শীতলাই, কাঁকনহাট, ললিতনগর, আমনুরা, আমনুরা বাইপাস, নিজামপুর ও নাচোল স্টেশন রয়েছে। এই পথটুকুতে মিশ্র রেললাইন স্থাপন করা গেলে এ দুই জেলায় বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানি আরও সহজ হবে। এতে একদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে, অন্যদিকে সময় ও পরিবহন খরচ দুই কমবে। রাজশাহীতে শিল্প প্রতিষ্ঠার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। যোগাযোগ ভালো করা গেলে ট্রান্সপোর্ট খুব সহজ ও সুলভ হবে। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন অনেকভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন রাজশাহীতে শিল্প-কারখানা স্থাপনের। বর্তমান সরকার রেলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। কিন্তু সামান্য ১০৪ কিলোমিটার পথের কারণে রাজশাহীর অর্থনৈতিক চাকা অনেকটা থামকে আছে। তাই এই ১০৪ কিলোমিটার রেলপথের উন্নয়ন করে রাজশাহীর অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। যাতে করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। এটা রাজশাহী অঞ্চলের প্রত্যেকের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ