রাজশাহী অঞ্চলে অবৈধ পুকুর খনন আইনি ব্যবস্থাটা চলমান থাক্

আপডেট: জুন ৩, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী অঞ্চলে অবৈধভাবে পুকুর খনন, মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের অপরাধে যত মন্থর গতিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়, তার চেয়ে অনেক দ্রুততার সাথে অবৈধ পুকুর খননের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তর প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারে এসেছে। সে ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা খুবই কম নেয়া হয়েছে। আইনি ব্যবস্থাটা নিয়মিতভাবে নেয়া গেলে এই অবৈধ তৎপরতা যে বহুলাংশেই বন্ধ হত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে কিংবা গোপনে ব্যাপকভাবে পুকুর খনন করে মাছ চাষের উপযোগী করা হচ্ছে। বলতে হয়, রাজশাহী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মাছ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয় তাও আবার জীবন্ত। মাছ চাষে এ অঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে, আবার কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই সুফল খুবই সাময়িক। প্রকৃতিকে যচ্ছেতাই অর্থাৎ অপরিকল্পিত উপায়ে ব্যবহারের ফলে মারাত্মক বিপর্যয় মোকবিলাও করতে হতে পারে। ইতোমধ্যে অবৈধ পুকুর খননের ফলে অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা জলবদ্ধতার সম্মুখিন হচ্ছেন। কৃষিপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে সামাজিক বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ঝগড়া, ফ্যাসাদ ও মারামারির মত ঘটনাও ঘটছে। সংঘর্ষে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও আছে। এ নিয়ে মামলা-মোকাদ্দমাও আছে। অর্থাৎ সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে অবৈধ উপায়ে পুকুর খননের প্রবণতা।
এটাও ঠিক যে, অবৈধ পুকুর খননের ক্ষেত্রে রাজনৈদিক প্রভাবশালীদের স্বার্থ থাকে। সেই স্বার্থ এতোই প্রবল হয়ে উঠে যে, অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসনকেও অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু আইনের যে ক্ষতিকর ব্যত্যয় হচ্ছে সেটা ক্রমাগতভাবে চলতে দেয়া যায় না। মাঝে মাঝে হলেও প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে। এটা প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে ব্যবস্থাটা নেয়া যায়। কেননা যারা অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে চায় তারা জানে যে কাজটি আইন সম্মত নয়। সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতি আস্থাশীল হলে সেটা সাহসের ব্যাপকতা তৈরি করে, সাহসীরাও সংগঠিত হয়।
পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে সেই উদ্যোগটাই সাহসের সাথে নিতে পেরেছেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ পুকুর খননকারী দুজনের কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। নিশ্চয় তিনি এই কাজটি করতে সাহসী ও সামর্থ হয়েছেন তাঁর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের শক্ত সমর্থনের কারণেই। প্রশাসনে এমন সমন্বয় থাকলে অবৈধ পুকুর খনন যে বন্ধ করা যায় সেটাই সামনে এসেছে। আমরা এমনই সমন্বিত ব্যবস্থাটাই চাই যাতে করে কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে এমন কাজ কঠোর হস্তে দমন করতে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ