রাজশাহী অঞ্চলে আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আশানুরূপ ফলন, চাষিরাও খুশি

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ) চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে। আশানুরূপ ফলনও মিলছে। কৃষকের মুখেও ফিরেছে হাসি। এখন কাটা-মাড়াইসহ ধানের শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজশাহীতে চলতি রোপা আমন মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬ হেক্টর জমি। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধান চাষ হয়েছে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৯২৩ মেট্রিক টন। যেখানে এখন পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন।
বুধবার (২৩ নভেম্বর) পর্যন্ত চার জেলায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৯৭ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, এবার আবাদ করতে তাদের অনেকটাই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাড়তি দামের সার-কিটনাশকের কারণে আবাদের খরচও কমেছে। বৈরি আবহাওয়া বিশেষ করে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেচযন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হয়েছে। প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে প্রতাশ্যা অনুযায়ী ধান ঘরে তুলতে পারছেন। এতেই খুশি তারা।

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে চালের যে চাহিদা তার থেকে উৎপাদন বেশি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।
রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার কৃষক আশরাফ আলী জানান, এবার সার ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে জমিতে সেচ ও কীটনাশকসহ অন্যান্য সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এমনকি ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত মজুরি বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফলন ভালো আছে। এবার ধানের দামও ভালো।

নওগাঁ গৌরীপুর গ্রামের কৃষক মতাজুল, মাফিজুল, আশড়ন্দ গ্রামের রইস উদ্দীন, আব্দুর রহমান, হিন্দুপাড়ার নিরেন, দিনেশ ও ভবেশ জানান, বর্ষা মৌসুম দেরিতে হওয়ায় এখানকার কৃষক আমন চাষাবাদের হাল একরকম ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। শরৎকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে অধিকাংশ জমি পতিত পড়েই থাকত। একটু দেরিতে চাষাবাদ হলেও সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দামও ভালো থাকায় তারা খুশি।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোতালেব হোসেন জানান, এবার আমনের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ অঞ্চলে ধান-চাল সংকটের কোনো শঙ্কা নাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ