রাজশাহী অঞ্চলে চাহিদার তুলনায় কোরবানি পশু রয়েছে বেশি জমে উঠেছে হাটে বেচাকেনা, দাম চড়া

আপডেট: জুন ২৬, ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

এ,কে. তোতা, গোদাগাড়ী:


রাজশাহী অঞ্চলে এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ১০ গুন বেশি কোরবানির পশু পালন হয়েছে। শুরু হয়েছে এসব কোরবানির পশু বেচাকেনা। জুনের শেষে এ অঞ্চলে হাটগুলোতে শুরু হয়েছে কোরবানি পশু বেচাকেনা। তবে এবার কোরবানির পশু কিনতে গুনতে হবে বাড়তি দাম। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাটগুলো বেচাবিক্রি জমে উঠেছে। ভালো দাম পেয়ে খামারিরা খুশি হলেও দেশের বাহির থেকে ভারতীয় গরু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাগল পালন হয়েছে রাজশাহীতে। এই বিভাগে ২৮ লাখ ২২ হাজার ৬৩৯টি কোরবানিযোগ্য ছাগল আছে। ছাগলের সঙ্গে ভেড়ার সংখ্যাও বেশি রাজশাহী বিভাগে। বিভাগের আট জেলায় আছে চার লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৭টি ভেড়া। এর মধ্যে রাজশাহীর জেলায় কোরবানির জন্য পশু পালন হয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৫২টি।

জেলায় এবার কোরবানির জন্য সম্ভাব্য চাহিদা তিন লাখ ৮২ হাজার ১১৮টি। চাহিদার চেয়ে প্রায় ১০ হাজার পশু বেশি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে, একলাখ ১৩ হাজার ৩৯৩টি তার জেলার পাঁচ উপজেলায় ছোট বড় ১১ হাজার ৫০৪টি খামারে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৫ টি গবাদী পশু প্রস্তত করা হয়েছে বলে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তফিজুর রহমান জানান। রাজশাহী অঞ্চলে গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের মমতাজ ডেইরি অ্যান্ড ক্যাটেল ফার্মের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, কোরবানি ইদকে সামনে রেখে প্রতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া পালন করে আসছেন। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হচ্ছে এসব গরু।

খামারিরা ক্ষতিকর স্টেরয়েড জাতীয় ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ব্যবহার করেন না বলে জানান তিনি। তার দাবি গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় খামারিদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে গরুর দাম স্বাভাবিকভাবে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা খামারী সেতাবুর রহমান বাবু মেম্বার বলেন, বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবার গরুতে লাভ কম হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাটগুলোতে গরুর দাম স্বাভাবিক রয়েছে। ভারত থেকে গরু ঢুকে পড়লে খামারীরা গরু দাম কমে গিয়ে খামারীরা লোকসানের মুখে পড়বে।

গোদাগাড়ী উপজেলা একলাখ ১২ হাজার গবাদী পশু প্রস্তত রয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় বেশি বলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার সরকার জানান। রাজশাহীর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলফিকার আখতার হোসেন বলেন, এবার করোনা নেই। আবার গবাদি পশু লালন-পালনে খরচ বেড়েছে।

তাই হাটে দাম বেশি থাকবে।তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে কত গবাদিপশু আছে তার একটা প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে যে, জেলায় পশুর কোন সংকট নেই। রাজশাহীর পশু দিয়ে এ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলাতেও পাঠানো যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ