রাজশাহী অঞ্চলে ছয় মাসে নিহত ১৭৬ ।। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা

আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্য। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বিভিন্নস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে চার শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে ঈদের আগে ও পরে সাত দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়াও দুর্ঘটনার শিকারে অনেকে পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্য মতে, জানুয়ারি মাসে নিহত হয়েছেন ২৯ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ জন, মার্চে ৩৩ জন, এপ্রিল মাসে ২২ জন, মে মাসে ৪৩ জন এবং জুন মাসে ২৫ জন। গত মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালের তথ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজিম উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসব দুর্ঘটনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ২৯ জুন রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাকচাপায় চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়। তারা নগরীর রামচন্দ্রপুর কেদুরমোড় এলাকার মৃত আবদুল লতিফের ছেলে তুষার হোসেন (২২) ও তার ভাতিজা শাহিন আলী (২০)। শাহিনের বাবার নাম নাজমুল ইসলাম। পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। একইদিনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জুনাইদ হোসেন নামে তিন বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত জুনাইদ উপজেলার খেতুর গ্রামের রুবেল হোসেনের ছেলে। গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তার এক দিন আগে বুধবার দুপুর দুইটায় নগরীর ভদ্রা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় শরীয়ত উল্লাহ (৩৫) নামে এক গার্মেন্টসকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো চারজন। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, নগরীর মতিহার থানার দেওপাড়া এলাকার সোহান আলী (৪৫), কাদিরগঞ্জ এলাকার মাসুম আলী (৪২), নওগাঁর মান্দা উপজেলার মইনুম এলাকার রেজাউল সরদার (৩০) ও বাগমারা উপজেলার দাসপাড়া গ্রামের ইব্রাহীম হোসেন (৬৫)। তাদের রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ জুন রাজশাহীর মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগার-রাজশাহীর (বিসিএসআইআর) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনসুর রহমান নিহত হন। শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিদ্যাধরপুর ও কালিনা সেতুর কাছে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ড. মনসুর রহমান বিসিএসআইআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বপালন করছিলেন। ড. মনসুর রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁর ধামুইরহাটের মঙ্গলবাড়ি। মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রামেক হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পবার শরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকালে ভুটভুটিতে করে আসছিলাম। পথে ভুটভুটিকে বাস ধাক্কা দিলে পড়ে গিয়ে মাথা ও পায়ে লাগে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা আরো অনেকেই আহত হন।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট তৌফিক আহসান টিটু বলেন, চালক ও সাধারণ মানুষ ট্রাফিক আইন মানেন না। চালকের অবহেলা, অসচেতনাতা, অসাবধানতা, শিক্ষার অভাব, প্রশিক্ষণের অভাব ইত্যাদি কারণে এ দুর্ঘটনাগুলো বেশি হচ্ছে। অনেক সময় চালকরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যানবাহন চালায়।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় তা অনেক সময় অদক্ষদের দেয়া হয়। সঠিকভাবে যাচাইবাচাই করে দেয়া দরকার। চালকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের যানবাহন চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বন্ধ ও ট্রাফিক আইন সর্ম্পকে সকলকে সচেতন হতে হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ঈদের সময় যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় চালকদের এক ট্রিপ থেকে এসে আরেক ট্রিপে যাওয়া ও নেশগ্রস্ত অবস্থায় যানবাহন চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো বেশি হয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে আমাদের সকলকে সচেতন ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।