রাজশাহী অঞ্চলে বেড়েছে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩ হাজার ২০০ কৃষক পাচ্ছে সরকারি প্রণোদনা

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০২১, ১০:০০ অপরাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


রাজশাহী অঞ্চলে আউশ উৎপাদনে জমি তৈরি ও লাগানোতে চাষিদের কর্ম ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। রুক্ষ আবহওয়ায় এ বছর আউশ উৎপাদন নিয়ে অনেক কৃষক শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু গতবছরের চেয়ে এ বছর আউশ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়েছে। আর লক্ষমাত্রা পূরণে সার, বীজ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এ অঞ্চলে ৪৩ হাজার ২০০ কৃষককে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহী অঞ্চলে গত বছর ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছিলো। এবছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৯৮৪ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন। সুবিধাভোগী এসব কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হচ্ছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার ইশ্রীপুর এলাকার কৃষক আহাদ আলী জানান, তিনি সরকারি সহায়তার সার বীজ পেয়েছেন। এবার প্রচুর রোদ-গরম নিয়ে আউশের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা ছিলো। বোরো আবাদে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ খরচ বেশি লেগেছে। আউশে সরকারি সহায়তা পাওয়ায় তিনি খুশি।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, তিনিও সরকারি এই সহায়তা পেয়েছেন। তিনি প্রায় দেড় বিঘা মতো জমিতে এবার আউশের আবাদ করবেন। এরই মধ্যে তার বীজতলা তৈরি হয়েছে।
গোদাগাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গোদাগাড়ি উপজেলায় ২ হাজার ৮৫০ জন কৃষককে সরকারি এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এই উপজেলায় এখন কৃষক জমি ও বীজতলা তৈরিতে কাজ করছেন। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, রাজশাহী অঞ্চলে এবার গতবছরের চেয়ে কিছুটা বেশিই আউশের আবাদ লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে এবার খরা-সহিষ্ণু ব্রি-ধান ৪৮ উন্নত জাতের বীজসহ সার সহায়তা দেয়া হয়েছে। আউশ উৎপাদনে কৃষকদের প্রণোদনার অংশ হিসেবে এই সহায়তা দেয়া হয়। উন্নত এ জাতের ধান আবাদে উৎপাদনও বেশি হবে।