রাজশাহী আধুনিক নগরী হবে : বাদশা

আপডেট: জুন ২৪, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, সংসদে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছি। বাজেট যেন গণমুখি হয়, সে সম্পর্কে সংসদে দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছি। রাজশাহীর উন্নয়নে দুষ্টুচক্র বাধার সৃষ্টি করছে। তাদেরকে পরাভূত করে রাজশাহীকে ভিন্নধর্মী আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাহলে রাজশাহী হবে ভিন্নধর্মী আধুনিক মহানগরী। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির বোর্ড রুমে রাজশাহী অঞ্চলের দাবি উপস্থাপন বিষয়ক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংসদ বাদশা বলেন, দেশের উন্নয়ন হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। রাজশাহীতে যা উন্নয়ন হয়েছে তা সরকারের সদিচ্ছা আর রাজশাহীবাসীর আকাক্সক্ষার ফসল। সাংসদ হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। রাজশাহীবাসীর উন্নয়নের কাজগুলোর জন্য কোন কৃতিত্ব দাবি করতে পারি না। আমি আমার কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, রাজশাহী আরডিএ মার্কেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট। এ মার্কেটকে অকেজো ও ঝুঁকিপূর্ণ করেছে প্রকৌশলীরা। ফাউন্ডেশন নেই অথচ বহুতল উঠে যাচ্ছে। আমরা আরডিএ মার্কেট ফাঁকা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আরডিএ মার্কেট নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়। মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রী রাজশাহীতে অত্যাধুনিক মার্কেট করার মতপোষণ করেছেন। যত টাকা লাগবে তা দেয়া হবে। তা আরডিএকে প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু দুষ্টুচক্রের বাধায় আরডিএ কে অত্যাধুনিক মার্কেট তৈরি করতে পারছে না।
সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, রাজশাহী শিক্ষা নগরী। এই শিক্ষা নগরীর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা ক্ষেত্রে রাজশাহীকে বিকশিত করতে হবে। মিয়াপাড়া সাধারণ গ্রন্থাগার ভেঙে অত্যাধুনিক মডেলের পাঠ্যাঅভ্যাস চর্চা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে পরিপূর্ণ করা হবে। রাজশাহী থেকে সরাসরি প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার। এই প্রধান দুটি কেন্দ্র থেকে রাজশাহী বিচ্ছিন্ন। রাজশাহী থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার যাওয়া যায় না। এই দাবি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের প্রধান দাবি রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম রেলযোগাযোগ করতে হবে।
এছাড়া সাংসদ বলেন, রাজশাহীর বিশুদ্ধ পানি নিয়ে আমি সাড়ে তিন বছর স্থায়ী কমিটির সঙ্গে ফাইট করেছি। শুধুমাত্র পানির মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প গত সপ্তাহে পাশ করেছেন। রাজশাহীর বন্ধ টেক্সটাইল মিল সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলদেশে এই টেক্সটাইল মিল প্রথম শিল্প। আমি টেক্সটাইল মিল চালুর পক্ষে। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট কত সংখ্যক বেকারদের কর্মসংস্থান হবে তা অর্থমন্ত্রী বলেন নি। কিন্তু টেক্সটাইল মিল চালু হলে রাজশাহীর অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। তখন আমি (সাংসদ) বলেছি রাজশাহীকেও উন্নয়নের মহাসড়কে রাখতে হবে। সেই মহাসড়কে রাজশাহীও উঠতে চায়। রাজশাহীর সংসদ সদস্য হিসেবে আমি কাজ করছি এবং মনোযোগের সাথে করছি।
সাংসদ বাদশা বলেন, রাজশাহীতে অনেক উন্নয়নমূলক কাজগুলো করেছি। এরমধ্যে সংসদে চিকিৎসা বিশ^বিদ্যালয় বিল পাস হয়েছে। রাজশাহীতে অতিশীঘ্রই চিকিৎসা বিশ^বিদ্যালয় হবে, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের নামে কলেজ হয়েছে ও সে কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। আরো একটি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে কিন্তু তার নাম ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, আমার নয়বছরে রাজশাহীর দুইটা কলেজ ও একটি বিশ^বিদ্যালয় পেয়েছি। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
রাজশাহীর আইটি ভিলেজ সম্পর্কে সাংসদ বলেন, রাজশাহীতে আইটি ভিলেজের কাজ চলছে। আইটি ভিলেজ দৃঢ়তার সাথে ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। রাজশাহীতে আইটি ভিলেজ হলে ১০ হাজারও বেশি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
সাংসদ বাদশা বলেন, রাজশাহীর সকল স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। আগামিবছরের মধ্যে সকল স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত সমস্যা থাকবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, নগর সম্পাদক মণ্ডলির সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু ও সাদরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকৃবন্দ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ