রাজশাহী ও নওগাঁকে লকডাউন ঘোষণা || তিন জেলার সাথে রাজশাহীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০২০, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পরপর তিন দিন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতদের দেহে করোনাভাইরাস রাজশাহী জেলায় শনাক্ত হয়েছে। সেই সাথে এই দুই জেলা থেকে আগতদেরকে খোঁজ করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী জেলাকে (১৪ এপ্রিল) লকডাউন করা হয়েছে। এরপরের দিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) নওগাঁ জেলাকেও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করেছে নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। ওইসব জেলার প্রবেশ পথে কড়া চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে রাজশাহী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এক নির্দেশনা জারি করা হয় এ নিয়ে। নির্দেশনায় বলা হয়, জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল রাজশাহীতে বন্ধ থাকবে। এছাড়া রাজশাহী আগমন পথের সবগুলো রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেন কোনো ধরনের যানবাহন রাজশাহী থেকে বের হতে এবং রাজশাহীতে প্রবেশ করতে না পারবে না।
ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সেখান থেকে রাজশাহীতে আসার প্রবণতা বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এটি রোধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
এবার নওগাঁ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। বিজ্ঞপ্তি মতে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে নওগাঁ জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জেলার ১১ উপজেলাসহ পুরো জেলা অবরুদ্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘ইতোমধ্যেই জেলার প্রতিটি প্রবেশ দ্বারে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। সরকারি বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে জেলা ও উপজেলা শহর, ইউনিয়ন ও প্রতিটি গ্রাম-জনপদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও বেশি সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ইত্যাদি এর আওতার বাইরে থাকবে। বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করবেন।’ তিনি আরও বলেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও এখনও মুক্ত রয়েছে নওগাঁ জেলা। তবে জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁকে আজ (বুধবার) থেকে লকডাউন করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় নাটোর-পুঠিয়া যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলার পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। নাটোরকে করোনামুক্ত রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে তিনি এই ঘোষণা দেন। এজন্য সীমান্ত এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট ও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, রাজশাহীর পুঠিয়ায় করোনা রোগি শনাক্ত হয়েছে। পুঠিয়া ও নাটোরের সীমান্ত এলাকায় কাফুরিয়া এবং ছাতনী নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। পুঠিয়া থেকে কোনো মানুষ
বা যানবাহন যাতে ওই এলাকা দিয়ে নাটোরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য গ্রামবাসীদের সতর্ক করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী থেকে জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া যেন কোনো গাড়ি নাটোরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর প্রবেশ পথেও পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। এতে করে রাজশাহী থেকে কোনো ব্যক্তিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ