রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস II প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো মেয়র লিটনের

আপডেট: জুন ২৩, ২০২৪, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী থেকে কলকাতা ট্রেনের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল রাজশাহী-কলকাতা ট্রেনের কথা। এবার সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হলো। শনিবার (২২ জুন) ভারতের নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে রাজশাহীতে। দীর্ঘদিনের এ চাওয়া পূরণ হতে যাওয়ায় খুশি রাজশাহীর মানুষ। দ্রুতই এ পথে ট্রেন চালু হবে এমন আশা করছেন তারা।

রাজশাহী অঞ্চল থেকে এখন প্রতিদিনই শত শত রোগী চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। আত্মীয়তার কারণেও প্রতিদিন অনেক মানুষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যান। আমদানি-রফতানির ব্যবসায়ীদেরও কলকাতাসহ বিভিন্ন রাজ্যে যেতে হয়। সরাসরি ট্রেন চালু হলে সবার দুর্ভোগ আর ভোগান্তি কমে যাবে। তাই প্রতিশ্রুত ট্রেন দ্রুতই চালুর দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর বিশিষ্টজনেরা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়ায় রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও জানিয়েছে রাজশাহীর ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতারা।

রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচল চালু করতে দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তাঁর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিলো। ২০২৩ সালের নির্বাচনী ইশতেহার’র ‘শিল্প-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ খাতের ৬ নং রাজশাহী টু কলকাতা ট্রেন ও রাজশাহী টু কলকাতা বিমান এবং রাজশাহী টু কলকাতা সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা হবে।’ এরআগে ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ৭ এর খ নম্বরে লেখা ছিলো ‘রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন সার্ভিস চালু করা।’

রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচল চালু করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে বারবার দাবি জানিয়েছেন রাসিক মেয়র। এছাড়া রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচল চালুর গুরুত্ব তুলে ধরে রেলমন্ত্রীকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছেন রাসিক মেয়র। সর্বশেষ গত ১০ মে ২০২৪ তারিখে রেলমন্ত্রী জিল্লুর হাকিম রাজশাহী সফরে আসলে রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি ট্রেন ও বিমান চালুর দাবি সংবলিত ডিও লেটার প্রদান করেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি ট্রেন চালুর জন্য আমরা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছি। অবশেষে এই ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। সরকারপ্রধান, রাজশাহী মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ যারা এই প্রক্রিয়াটা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, আমরা রাজশাহীবাসী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। রাজশাহী অঞ্চলের অসংখ্য রোগী এই ট্রেনে স্বস্তির সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে পারবে। তাদের জন্য এই ট্রেন যে কতটা উপকারে আসবে, সেটা বলে বোঝানো কঠিন। ট্রেনটি চালুর সিদ্ধান্তে আমরা খুব খুশি।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কিংবা যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যেতে হলে রাজশাহী থেকে খুলনাগামী ট্রেনে উঠতে হয়। সে ট্রেনে টিকিট পাওয়া যায় না ভারতগামী মানুষের ভিড়ে। নতুন ট্রেন সরাসরি কলকাতা পর্যন্ত চলবে বলে অনেক উপকার হবে। রোগীদের উপকার তো হবেই, এর সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে। বিশেষ করে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিকারকেরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। ভারতের সঙ্গে যত বেশি যোগাযোগ সহজ হবে, তত বেশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন হবে। রাসিক মেয়র ট্রেন চালুর জন্য অনেক দৌড়াঝাঁপ করেছেন বিভিন্ন দফতরে। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

এই ট্রেন চলাচলের ফলে পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন পর্যটকদের সংগঠন রাজশাহী ট্যুর ম্যুরল্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা, ব্যবসা ও পর্যটনÑএই চার কারণে ভারতে যেতে হয়। রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালু হবে শুনে আমরা যারা ভ্রমণ পছন্দ করি, তারাও অনেক খুশি। অচিরেই যেন এটি চালু হয়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী থেকে কলকাতা সরাসরি ট্রেন ও বিমান যোগাযোগ চালু করা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম একটি। এ পথে সরাসরি ট্রেন ও বিমান চালু করতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। অবশেষে সেই কাক্সিক্ষত ট্রেন যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। এই ট্রেন সার্ভিস চালু হলে রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলের মানুষেরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। ভবিষ্যতে রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি বিমান চালুর ব্যাপারে আমি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

রাসিক মেয়র আরও বলেন, রাজশাহীর এখনকার বিমানবন্দর দিয়েই কলকাতার সঙ্গে প্যাসেঞ্জার বিমান চালানো সম্ভব। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আনার জন্য এ বিমানবন্দর প্রস্তুত করা হবে। তখন এটি এমনিতেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে। কার্গো বিমান চালানো যাবে। ভারতের সঙ্গে ছোট-বড় সব ধরনের প্যাসেঞ্জার বিমানও চালানো যাবে।

এদিকে বাংলাদেশের রাজশাহী মহানগর থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল চালু হতে যাচ্ছে। ২২জুন নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকালে জননেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে আনন্দ র‌্যালী শুরু হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে সমাবেশে বক্তাবরা বলেন, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচল চালু করতে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রচেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এটি রাসিক মেয়রের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। অবশেষে এই ট্রেন সার্ভিস চালুর ঘোষণায় আমরা অনেক আনন্দিত। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এ সময় জাতীয় শ্রমিক লীগ, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মাহবুবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আখতার আলী সহ মহানগর, থানা ও বিভিন্ন ইউনিটের সভাপতি ওসাধারণ সম্পাদকসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ