রাজশাহী-কলকাতা রেল যোগাযোগ ‘রুট সিলেকশন’ পর্যায়ে

আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী থেকে কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের দাবি দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলের আপামর জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে সেই দাবি উত্থাপন করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও। সেই দাবি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ফোরামে রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন সার্ভিসের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ বাদশাও। ইতোমধ্যে সেই দাবির সাথে সম্মত জানিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আলোচনাও করেছেন। তারাও ঢাকা-কলকাতা এবং খুলনা-কলকাতার মতো রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচলের বিষয়ে একমত হয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনাও চলছে। বিশেষ করে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে ‘রুট সিলেকশন’ নিয়ে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচলের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে একটি প্রস্তাবনা রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে রাজশাহী থেকে মালদহ হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একটা ট্রেন চলাচলের রুটের কথা বলা হয়েছে। সেই রুট নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। এখন রুট সিলেকশন একদম আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) মিহিরকান্তি গুহ জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার রাজশাহীতে এখানকার জনপ্রতিনিধিরা তাকে রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচলের বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি তখন বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা দেন। সেই প্রস্তাবনায় রাজশাহী থেকে মালদহ হয়ে কলকাতা ট্রেন চলাচলের কথা বলা হয়েছে। ম্যাপে সেই রুটটি আমি রেলমন্ত্রীকে দেখিয়েছি।
তিনি জানান, রাজশাহী থেকে মালদহ যেতে লাগে তিন ঘণ্টা। আর মালদহ থেকে কলকাতা যেতে আট ঘণ্টা। অর্থাৎ রাজশাহী থেকে মালদহ হয়ে কলকাতা রুটে ট্রেনে চলাচল করতে মোট সময় লাগবে ১১ ঘণ্টা। অথচ এর অর্ধেক সময় লাগবে রাজশাহী থেকে দর্শনা হয়ে কলকাতা গেলে। ফলে এই রুটই অনেকটা সহজ হবে। এই রুট ব্যবহার করলে তার চেয়ে অনেক কম ভাড়াও লাগবে। আর যাদের মালদহ যাবার প্রয়োজন তারা তো এমনিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ হয়ে মালদহ যেতে পারে। ফলে এইসব বিষয়ে নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন এসব সিদ্ধান্ত নেবেন আমাদের মন্ত্রী, সচিব ও রেলভবনের ডিজি।
তিনি জানান, কোথাও ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিলে তার প্রথম ধাপই হচ্ছে ‘রুট সিলেকশন’। এরপর কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, র‌্যাক নির্ধারণ ও সময়সূচিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে চূড়ান্ত করা হয়। তবে, মালদহ হয়ে ট্রেন চলাচল করলে অন্তত সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে বলেও তিনি রেলমন্ত্রীকে জানান।
এই রুটের ম্যাপও রেলমন্ত্রীর কাছে প্রদর্শন করা হয়েছে। যদিও এই রুট দিয়ে এখন মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী ভারত হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শিগগিরিই কথা বলবেন। এরপরই ‘রুট সিলেকশন’ চূড়ান্ত হবে। এরপর অনুমোদনসহ অন্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে বলেও উল্লেখ করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহা-ব্যবস্থাপক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ