রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের নাম কখনও জেলা স্কুল ছিল না

আপডেট: December 6, 2016, 12:13 am

আনারুল হক আনা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে আসা যাই, ১৮২৮ সালে বর্তমান রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইংলিশ স্কুল (ঊহমষরংয ঝপযড়ড়ষ) নামে আত্মপ্রকাশ করে। সেই সময়ের স্থানের নাম সংযোজনে এনে প্রবন্ধকারেরা ইংরেজদের উচ্চারণে বাউলিয়া ইংলিশ স্কুল (ইধঁষবধয ঊহমষরংয ঝপযড়ড়ষ) বলছেন। ১৮৩৬ সালে সরকারিকরণের সময় নাম পায় বুয়ালিয়া স্কুল (ইধঁষবধয ঝপযড়ড়ষ)। ১৮৭৩ সালে এফএ ক্লাস যুক্ত করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (ঈধষপঁঃঃধ টহরাবৎংরঃু) এর মাঝখানে হাই (ঐরময) শব্দের সংযোগ ঘটিয়ে স্কুলটির নাম দেয় বুয়ালিয়া হাই স্কুল (ইধঁষবধয ঐরময  ঝপযড়ড়ষ) এবং সেকেন্ড গ্রেড কলেজের মর্যাদা দান করে। ১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজ (জধলংযধযুব ঈড়ষষবমব) এর অ্যাফিলিয়েশন (স্বীকৃতি) দেয়ার সময় মাধ্যমিক অংশের নাম রাখে কলেজিয়েট স্কুল (ঈড়ষষবমরধঃব ঝপযড়ড়ষ)। স্থানের নামানুসারে কোন এক সময় কলেজিয়েট স্কুল শব্দ দুটির পূর্বে রাজশাহী শব্দটি যোগ হয়েছে। ফলে দেশের সর্ব প্রাচীন এ আধুনিক প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (জধলংযধযর  ঈড়ষষবমরধঃব ঝপযড়ড়ষ) নামে প্রসিদ্ধ।
লেখকের বিবরণ
উইলিয়াম অ্যাডাম ১৮৩৫ সালের মাঝ পর্যায়ে এ স্কুল পরিদর্শন করেন বলে তাঁর বিবরণীতে উল্লেখ করেন। তিনি স্কুলের নাম ও অবস্থান সম্পর্কে লিখেছেন ঊহমষরংয ঝপযড়ড়ষ ধঃ ইধঁষবধয.  সে সময় বুয়লিয়া বলতে বোঝাত বড়কুঠি ও তার আশেপাশের এলাকা। স্কুলটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে উইলিয়াম অ্যাডাম তথ্য দেননি। তবে ১৮৫৮-১৮৫৯ সালের রিপোর্ট অনুসারে  স্কুলটি পদ্মার ভাঙ্গনের মুখে পড়লে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সি ই চ্যাপম্যানের নেতৃত্বে তার মালপত্র গুটিয়ে আনা হয়। প্রবন্ধকার মো. নুরুন্নবী ২০১৬ সালের ৬ মার্চ রাজশাহী কলেজের লাইব্রেরিয়ান মো.মহিউদ্দিনের চেম্বারে মত প্রকাশ করেন, মালপত্র গুটিয়ে এনে রাখা হয়েছিল কোন সরকারি অফিসের বাংলোতে। আবার ২০১৬ সালের ২০ মার্চ নগর ভবনের ২১১ নং রাজশাহী সিটি মিউজিয়াম কক্ষে  তিনি মত প্রকাশ করেন, মালপত্র গুটিয়ে আনা হয়েছিল সার্কিট হাউসে। মো. নুরুন্নবী তাঁর প্রবন্ধে ১৮৪১ সালের ডিপিআই রিপোর্টসহ বেশ কিছু রেফারেন্স দিয়েছেন। সেসব রেফারেন্স রিপোর্ট ও গ্রন্থে এ সব তথ্য তিনি পড়েছিলেন। রিপোর্ট ও গ্রন্থগুলো রাজশাহী কলেজ লাইব্রেরির পুরনো অংশে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন। তাঁর পরামর্শ অনুসারে রাজশাহী কলেজ লাইব্রেরির পুরনো অংশের সেল্ফগুলো অনুসন্ধান করেও সেগুলো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
এ সব তথ্য তথ্য থেকে বলা যায়, ইংলিশ স্কুল সর্ব প্রথম বড়কুঠির পাশের কোন এক জায়গায় স্থাপন করা হয়েছিল। অ্যাডামের বিবরণ অনুসারে তাঁর পরিদর্শন কালে অর্থাৎ ১৮৩৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে স্কুলটি চালু ছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে ১৮৩৪ সালের নভেম্বরে শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধকালীন ছাত্রসংখ্যা ছিল ১৩৪ জন। তাঁদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ নিয়মিত ছিল। ইংরেজি ও বাংলা উভয় মিডিয়ামে পড়ানো হতো। ১৩৪ জন ছাত্রের মধ্যে ৮৫ জন ইংরেজি ও ৪৯ জন বাংলা মিডিয়ামে পড়তো। বাংলা মিডিয়ামের ছাত্রদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে চৌদ্দ বছর ও ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রদের বয়স ছিল আট থেকে চব্বিশ বছর। বাংলার ছাত্ররা ছিল বুয়ালিয়া শহর ও তার আশেপাশের এলাকার। ইংরেজির বৃহৎ অংশ বুয়ালিয়ার বাসিন্দা ছিল না। কেউ কেউ ছিল কোর্টে চাকরিজীবীদের সন্তান। কেউ কেউ ছিল পাবনা, কুমারখালি, নাটোর ও মুর্শিদাবাদ থেকে আগত। বাংলা মিডিয়ামের ছাত্ররা দেশিয় পদ্ধতিতে লিখা, পড়া ও হিসাব শিখত। প্রথম দিকে তাঁদের পড়া-লিখার উপকরণ স্কুল থেকেই সরবরাহ করা হতো। পরবর্তীতে তাঁদের  নিজ খরচে হতো। ফলে ২৫ জন ছাত্র স্কুল ত্যাগ করে।
ইরেজির ছাত্ররা প্রথমে পড়া ও বানান শিখতো। পরবর্তীতে লিখা এবং ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ পড়তো। মৌখিকভাবে তাঁদের কিছু ভূগোল ও জ্যোতির্বিদ্যা শেখানো হতো। সর্বোচ্চ শ্রেণির পাঠ্যসূচি ছিল ইংরেজি ইতিহাস ও প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক দর্শনের সাথে পরিচিতি।
বাংলা ও ইংরেজি ছাত্রদের পাঠ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করলে সহজেই বোঝা যায়, ইংরেজি মিডিয়ামের ছাত্রদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতো। তাঁদের পাঠ্য ছিল বেশ মানসম্মত। ইংরেজির শিক্ষকদের বেতনও ছিল বেশি। অন্যান্য সুবিধাও পেত। উইলিয়াম অ্যাডামের বিবরণীতে তিন জন শিক্ষকের তথ্য পাওয়া যায়। একজন ইংরেজি, একজন তাঁর সহকারী ও একজন বাংলা। ইরেজি শিক্ষকের মাসিক বেতন ছিল ৮০ রুপি, সহকারী ইংরেজি শিক্ষকের মাসিক বেতন ছিল ২০ রুপি ও বাংলা শিক্ষকের মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৮ রুপি। ইংরেজি শিক্ষকের জন্য ৮০০ রুপি ব্যয়ে একটি বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি বিনা ভাড়ায় আবাসিক সুবিধা পেতেন। স্কুল ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ১২০০ রুপি। বই, কাগজ, কলম, কালি ও স্কুলটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যয় বরাদ্দ ছিল ১২ রুপি। স্কুল ও শিক্ষকের বাসভবন নির্মিত হয়েছিল চাঁদা তুলে। স্কুল পরিচালন ব্যয় নির্বাহ হতো একই পদ্ধতিতে। চাঁদাদাতা ছিলেন সরকারি আমলা, নীল ব্যবসায়ী, জমিদার ও আদালতের স্থানীয় কর্মকর্তা। ব্যয়ের চেয়ে চাঁদার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে স্কুলটি এক সময় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
উইলিয়াম অ্যাডামের পরিদর্শনের পর স্কুলটি ১৮৩৬ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বুয়ালিয়া স্কুল (ইধঁষবধয ঝপযড়ড়ষ) নামে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হয়েছিল। ১৮৩৭ সালের শেষ পর্যায়ে এর ছাত্র সংখ্যা ছিল ৮০ জন এবং প্রতি মাসের গড় খরচ ছিল ১৭৭ রুপি। ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পর বুয়ালিয়া স্কুল এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ১৮৭৩ সালে এফএ শ্রেণি সংযুক্ত করে স্কুলটিকে সেকেন্ড গ্রেড কলেজের মর্যাদা প্রদান করা হয় এবং নামকরণ হয় বুয়ালিয়া হাই স্কুল। ১৮৭৮ সালে বুয়ালিয়া হাই স্কুলকে দুটি অংশে ভাগ করে একাংশকে ফার্স্ট গ্রেডের মর্যাদা দিয়ে রাজশাহী কলেজ নামে অ্যাফিলিয়েশন দেয়া হয়। অপর অংশ কলেজিয়েট স্কুল নাম দিয়ে বুয়ালিয়া হাই স্কুল শব্দগুলোর বিলুপ্তি ঘটে। কোন এক সময় স্থানের নাম রাজশাহী শব্দটি যোগ হয়ে আজকের রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল নামটি পরিচিতি পায়। মো. নূরুন্নবী তাঁর প্রবন্ধে তথ্য প্রদান করেছেন, ১৮৩৬ সালে সরকারিকরণের পর সারদা প্রসাদ বসুকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। সরকার বন্ধকের টাকা মিটিয়ে দিয়ে স্কুলটিকে দায় মুক্ত করে। স্কুলটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় জনশিক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যার ইংরেজি নাম ছিল খড়পধষ ঈড়সসরঃঃবব ড়ভ চঁনষরপ ওহংঃৎঁপঃরড়হ. সরকারি খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার ১৮৪৫ সালে সরকার এ স্কুলের ছাত্র বেতন চালু করে। ফলে আর্থিক উন্নয়নের সঙ্গে লেখাপড়ার মানোন্নয়ন ঘটে।
১৮৪৮ সালে ইন্সপেক্টরের প্রস্তাব অনুসারে স্থানীয় জনশিক্ষা কমিটির সেক্রেটারি ৭৬৭১-৬-১ অংকের একটি হিসাব দু’শ জন ছাত্রের জন্য একটি ভবন নির্মাণের বাংলা সরকারের নিকট নকশা পেশ করেন। ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে স্থানীয়ভাবে চাঁদা তোলা হয়। ৩১৬৪-৯ অংকের টাকা স্থানীয় কালেক্টর অফিসে জমা ছিল। ১৮৪৮ সালে ফান্ডে মোট জমা হয় সর্বমোট ৫৯৮২-৯-২ টাকা। এ অর্থের সিংহভাগ প্রদান করেন দিঘাপতিয়ার জমিদার রাজা প্রসন্ননাথ রায় ও নাটোরের জমিদার আনন্দনাথ রায়। ১৮৪৯ সালে বুয়ালিয়া স্কুলের পাকা ভবন নির্মিত হয়েছিল। ১৮৫৭ সালে ভবনটি পদ্মায় ভেঙ্গে যায়। এরপর বর্তমান স্থানে পুনরায় পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং ১৮৬২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এ ভবন নির্মাণে সরকার ও জমিদারদের অনুদান এবং ছাত্রদের উদ্বৃত্ত অর্থও ব্যয় হয়েছিল। ভবন নির্মাণে পুঠিয়ার জমিদার যোগেন্দ্র নারায়ণ অর্থ সাহায্য প্রদান করেছিলেন। যা ১৯৯২ সালে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। স্কুলে এফএ ক্লাস খোলার জন্য দুবলহাটির জমিদার হরনাথ রায় ১৮৭২ সালে বার্ষিক ৫ হাজার টাকা আয়ের সম্পত্তি দান করেন। ১৮৭৩ সালে এফএ ক্লাস যুক্ত হয়ে স্কুলটি সেকেন্ড কলেজের মর্যাদা লাভ করে এবং নাম হয় বুয়ালিয়া হাই স্কুল। ১৮৭৪ সালে পুঠিয়ার রাণী শরৎ সুন্দরী দেবীর আর্থিক সাহায্যে কলেজের জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণ হয়েছিল।১৮৭৮ সালে রাজশাহী কলেজ অ্যাফেলিয়েশন পেলে এফএ ক্লাস কলেজ অংশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে যায় এবং স্কুলের নাম হয় কলেজিয়েট স্কুল। ১৮৮৪ সালে রাজশাহী কলেজ নিজস্ব ভবনে  স্থানান্তরিত হলেও স্কুল ও কলেজ একই ম্যানেজমেন্টে পরিচালিত হতো। ১৯২৩-১৯২৪ সালে চিন্তাহরণ চক্রবর্তী প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন স্কুল ও কলেজের নিয়ন্ত্রণ পৃথক হয়ে যায়।
১৯০৮ সাল পর্যন্ত স্কুলের কোন ম্যানেজমেন্ট কমিটি ছিল না। ঠরংরঃরহম ঈড়সসরঃঃবব বা পরিদর্শন কমিটি নামে একটি কমিটি ছিল। এ কমিটি মাঝে মাঝে স্কুলের উন্নয়নের জন্য সাহায্য করতো।
১৯৩০ সালে এ স্কুলে বালক সেনা সংগঠন, জুনিয়র রেডক্রস সোসাইটি তৈরি হয় এবং সর্ব প্রথম বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। ১৯৪০-১৯৪১ সালে পাঠাগার ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে এ পাঠাগারটি পশ্চিম পাশের ভবনের দোতলার একটি বড় কক্ষে শোচনীয়ভাবে অবস্থান করছে। যাকে পাঠাগার ভাবাই কষ্টসাধ্য। ১৯৫৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম পাইলট স্কুল হিসেবে স্কুলটি গৃহীত হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে প্রভাতী ও দিবাশাখা শিফট চালু হয়।  পাকিস্তান আমলে ১১ কক্ষ বিশিষ্ট একটি তিনতলা ভবন নির্মাণ হয়েছিল।
বাবু মোহিনী মোহন চক্রবর্তী প্রধান শিক্ষক থাকাকালে ১৮৫৭ সালে বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল ১৪৬ জন। ১৮৫৮ সালে ছাত্র সংখ্যা ২০ থেকে ২১৫ জনে বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্র বেতন ১ টাকা থেকে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয় ও সেই সাথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরও স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৬২ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি দোতালা বিজ্ঞান ভবন ও ১টি ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হয়। ১৯৬৩ সালে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে কলেজ ও স্কুল সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে পড়ে। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে আর একটি ত্রিতল ভবন নির্মিত হয়। ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কলেজিয়েট স্কুল রাজশাহী শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ১৯৬৯ সালে পুনরায রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদপ্তরের উপ-পরিচালকের নিয়ন্ত্রণাধীনে আসে।
১৯৬৪ সালে প্রভাতী ও দিবাশাখা শিফট চালু হয়। উন্নত শিক্ষামানের ফলে অভিভাবকগণের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও চাহিদার প্রেক্ষিতে ১৯৬৪ সালে স্কুলে প্রাতঃকালীন (গড়ৎহরহম ংযরভঃ) শাখার সংযোজন করে এটা পরিচালনার জন্য একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ পৃথক শিক্ষকমন্ডলী নিযুক্ত করা হয় এবং বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য ও শিল্প কলায় পাঠ দান কার্যক্রম চালু হয়।
২০০৮ সালে স্কুলটিকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ আছে। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখের প্রাপ্ত তথ্যানুসারে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র সংখ্যা ১৫৫০ জন। স্কুলটির মোট শিক্ষক সংখ্যা ৫৭ জন।
২০০০ সালে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ছাত্র অধ্যয়ন করে এবং শিক্ষকের সংখ্যা ৫৫ জন। এর মধ্যে ১জন প্রধান শিক্ষক, ২জন সহকারি প্রধান শিক্ষক ও ৫২ জন সহকারী শিক্ষক। স্কুলের জমির পরিমাণ .৯৭২৫ একর। এর মধ্যে কিছু জমি সরকারি আদেশে রাস্তার জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। স্কুলের জমি প্রাপ্তির জন্য রেকর্ড পাওয়া যায় না।
৩১ জুলাই ২০০৫ তারিখে এখানে আরেকটি নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয়। মেয়র ও সংসদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান ভবনটি উদ্বোধন করেন। একই দিনে মেয়র দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসার নুতন ভবন উদ্বোধন করেন। রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভবন দুটি নির্মিত হয়। এতে ব্যয় হয় ৪০ লক্ষ টাকা।
প্রতি বছর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মধ্যে এবং এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ডে স্থান অধিকারী সকল ছাত্র অথবা সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে আব্দুল মতিন মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ প্রশংসনীয় উদ্যোগের উদ্যোক্তা এ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মরহুম এএইচএম আব্দুল মতিন। তিনি ১৯৮৬ সালে এ স্কুলের দেড়শত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আব্দুল মতিন মেধা বৃত্তি চালু করার উদ্দেশ্যে প্রথমে ৫৪ হাজার এবং পরে ২৮ হাজার সর্বসাকুল্যে ৮২ হাজার টাকা প্রদান করেন। এএইচএম আব্দুল মতিন ১৯৩৮ সালে এ স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্রিটিশ কোম্পানি, জাপানি কোম্পানি, পাকিস্তান আমলে হাবিব ব্যাংকের উপদেষ্টা এবং দেশ স্বাধীনের পর রূপালী ব্যাংকের পরিচালক ও ফেডারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান এর পদে চাকরি করেন। পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানিরও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে পরলোকগমন করেন।
এ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আবদুল্লাহ আজফার তাঁর মায়ের নামে  ২০০৮ সালে আসফিয়া আজফার বৃত্তি চালু করেন। গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের এ বৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু তাঁর আব্বার নামানুসারে ২০১০ সালে ফজলার রহমান মেমোরিয়াল মেধা বৃত্তি চালু করেন। বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্রটি এ বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করে। এসএসসি-১৯৯৯ ব্যাচের ছাত্ররা প্রতি বছর গরিব শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে এগিয়ে আসেন। এ স্কুলের পুরাতন ছাত্রদের সংগঠন ‘সতীর্থ ৭৪’ স্কুলটির বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করে।
লেখক: -আনারুল হক আনা, শ্রমিক
যধয়ঁবৎপপ@মসধরষ.পড়স