রাজশাহী কলেজের ১৪৫ বছরে পদার্পন

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কাটেন কথা শিল্পী হাসান আজিজুল হকসহ অতিথিরা- সোনার দেশ

ঐতিহ্যের ১৪৪ বছর পার করে ১৪৫ বছরে পা দিল রাজশাহী কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি শনিবার ১৪৫ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। ‘এসো মিলি আলোকের ঝর্ণা ধারায়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে রাজশাহী কলেজের ১৪৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে কলেজের শহিদ মিনারের সামনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। পরে কলেজ প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর সোনাদিঘি মোড়, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজশাহী কলেজে গিয়ে শেষ হয়।
র‌্যালি শেষে কলেজের শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান ভবনের সামনে কেক কেটে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন হয়। পরে পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠ এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু করা হয় স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান। অতিথি ছিলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক, অর্থনীতিবিদ ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর সনৎ কুমার সাহা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞানী ও এমিরেটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক। এছাড়াও রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নুরজাহান বেগম ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু রেজা আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যাক্ষ প্রফেসর আল-ফারুক চৌধুরী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘আমার বাঙ্গালী। আমরা বীরের জাতি। আমরা কুঁড়ে হয়ে না মাথা উচু করে বাঁচবো। বাংলাদেশ ব্যাতিত বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই যে তারা ভাষার জন্য নিজের প্রাণ দিয়েছে। বাঙ্গালী প্রত্যেকের অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল খালেক বলেন, ‘আমরা বলছি আমরা মুক্তি যুদ্ধ করেছি। আর তোমরা বলবে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দেখেছি। আমরা তোমাদেরকে স্বাধীন দেশ, জাতীয় পতাকা আর জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে গেছি।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে স্মৃতিচারণ করেন, কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী ফারজানা হুসাইন ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদেকুল হক।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজশাহী কলেজ রাজশাহীর গর্ব। কারণ রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কলেজের সম্মান অর্জন করেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রথম শহিদ মিনারও এ কলেজেই রয়েছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
রাজশাহী শহরে পদ্মা নদীর ধারে ৩৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য স্যার যদুনাথ সরকার, বৈজ্ঞানিক প্রথায় ইতিহাস চর্চার পথিকৃত অক্ষয় কুমার মৈত্র, সাবেক প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান, পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ আলী মিয়া, জননেতা ও শিক্ষানুরাগী মাদার বখশ, জাতীয় চার নেতার একজন এএইচএম কামারুজ্জামানের মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শিক্ষা লাভ করেছেন।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে এ কলেজ। ২০১৪ সালে কলেজটি সরকারি কলেজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে। গত বছর সরকারি-বেসরকারি সব র‌্যাংকিংয়েই সেরা হয় রাজশাহী কলেজ। এ বছরও দেশসেরার মুকুট লাভ করে কলেজটি। বর্তমানে এ কলেজে ২৪টি বিষয়ে অনার্স ও ২২টি বিষয়ে মাস্টার্স পড়ানো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ