রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে অধ্যক্ষসহ আহত তিন

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী কলেজে মিছিল চলাকালীন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েকদফা ভাঙচুর এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন জন আহত হন। পরে কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে ওই দিন কলেজের সবধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১১টায় ৯০’র স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে নিহত ছাত্রলীগ নেতা শহিদ জিয়াবুলের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে শোকর‌্যালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ। ওই অনুষ্ঠানে নগর আওয়ামী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এইসময় কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন। মিছিল থেকেই এক পর্যায়ে ছাত্রদলের এক কর্মী ছাত্রলীগের ওপর হামলা করে। এরপর উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এই সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা ইসলাম ইতিহাস বিভাগের আবদুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। ওই শিক্ষার্থী তাদের হাত থেকে বাঁচতে ফুলার ভবনের দর্শন বিভাগে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের কর্মীরা দর্শন বিভাগে ঢুকে ওই শিক্ষার্থীকে পেটাতে থাকে এবং ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানও হামলার শিকার হন। ছাত্রলীগের হামলায় তার কান দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরে পুলিশ ওই আহত শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকের তিন ঘণ্টা পর ওই শিক্ষার্থীকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
হামলার ঘটনা শুনে কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগকে থামাতে গেলে ছাত্রলীগ তার সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাকবিত-ার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেন। পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাঁকে রক্ষা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অধ্যক্ষের নেতৃত্বে পরিস্থিতি সাময়িক নিয়ন্ত্রণে এলেও বেলা পৌনে একটার দিকে ছাত্রলীগ কর্মীরা কলেজ হোস্টেলের গেট দিয়ে ঢুকে স্লোগান দিতে থাকে। এইসময় তারা প্রথম বিজ্ঞান ভবনের পাশের টেন্টে লোহার হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালায়। একইসাথে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কলেজ লাইব্রেরির সামনে এসে শহিদ মিনারের পাশে অবস্থিত ছাত্রদলের টেন্টে হাতুড়ি দিয়ে আবার ভাঙচুর চালায় এবং একইসাথে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাখা ফুলের টবগুলো ভেঙে ফেলে।
গতকাল সোমবার ভাঙচুরের সময় কলেজ প্রাঙ্গণে গেলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া সত্ত্বেও এই প্রতিবেদককে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। ভাঙচুরের পর ছাত্রলীগের কর্মীরা কলেজ থেকে বের হয়ে আবার বিশ মিনিট পর মিছিল নিয়ে কলেজে ঢুকে তাদের টেন্টে অবস্থান নেয়। এরপর সেখানে ছাত্রলীগের কলেজ আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সিয়াম বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর ছাত্রদলের কর্মীরা শহিদ জিয়াবুলের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। এবারও তারা সেই চেষ্টা করেছিল। তারা অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এটা আর বরদাস্ত করা হবে না। আগামিকাল মঙ্গলবার এর প্রতিবাদে কলেজে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর ছাত্রলীগ কর্মীদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে নিয়ে যান।
কলেজের অধ্যক্ষ মহা. হবিবুর রহমানকে তার ওপর কোনো হামলা হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। বলেন, তার সাথে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈমের নেতৃত্বে বহিরাগত কর্মী এনে এই হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীকে তিন ঘণ্টা আটক করে হাজতে রাখার বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই নাদিম বলেন, কেউ নিতে আসেনি। তাই তাকে আটকে রাখা হয়েছে। ’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ