রাজশাহী কলেজে শেষ হলো দুই দিনব্যাপি বইমেলা

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



কৈশোর তারুণ্যের বইয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপি রাজশাহী কলেজে বইমেলা। শনিবার রাজশাহী কলেজ মিলনায়তন প্রাঙ্গনে এ বইমেলা শুরু হয়। দু’দিন ব্যাপী এ বইমেলা শেষ হয় গতকাল রোববার। মেলা চলে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
গতকাল রোববার দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে চেখে পড়লো ক্রেতা আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দোলযাত্রার কারণে কলেজ বন্ধ থাকলেও তার প্রভাব পরে নি মেলায়। বই প্রেমীরা স্টলে ঘুরে ঘুরে বই দেখছেন। স্টলে সাজানো বইয়ের মধ্যে থেকে খুঁজে বের করছেন নিজের পছন্দের বই। আবার অনেকেই স্টলের সামনে দাড়িয়ে পড়ে নিচ্ছেন বইয়ের কিছু অংশ অথবা লেখক পরিচিতি।
মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার মোট ১০টি স্টল ছিল। স্টলগুলোর মধ্যে ছিল, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, প্রথমা প্রকাশন, ইউনির্ভাসিটি লিমিটেড, ইফরি মিকরি, কাকলী প্রকাশনী, সময় প্রকাশন, অনুপম প্রকাশনী, অনন্যা, প্রতীক ও জাগৃতি। প্রতিটি স্টলেই ছিল ক্রেতা আর দর্শনার্থীদের আনাগোনা।
মেলায় অংশ নেয়া অ্যার্ডন পাবলিকেশনের তমাল ¯্নাল সোনার দেশকে বলেন, সাহিত্যর্কীতির বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি হওয়া বইগুলো মধ্যে মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়’র পদ্মা নদীর মাঝি, বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায়’র পথের পাঁচালী, প্রভাত কুমার মুখোপধ্যায়’র রত্নদীপ উল্লেখযোগ্য।
মেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা বইমেলায় এসেছেন মূলত নতুন নতুন বই আর নবীন লেখকদের সঙ্গে পরিচিত হতে।
মেলায় ঘুরতে আসা নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের নাজমুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থী সোনার দেশকে বলেন, ‘বই মেলায় আসার উদ্দেশ্য বই দেখা। নতুন নতুন বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। আমার ইংরেজী বই পড়তে বেশি ভালো লাগে। কিন্তু মেলায় ইংরেজী বইয়ের কালেকশন খুব একটা বেশি ভালো চোখে পড়লো না। তবে বই মেলার প্রভাব পড়েছে রাজশাহীতে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই বেশি দেখা যাচ্ছে। বইমেলা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন এ শিক্ষার্থী।
মেলায় আসা রাজশাহী কলেজে ভুগোল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহীন আক্তার সোনার দেশকে বলেন, ‘রাজশাহীতে বইমেলাগুলো ছোট আকারে হলেও অনেক ভালো হচ্ছে। সেখানে নতুন লেখকদের বই পাওয়া যাচ্ছে। নতুন নতুন লেখক এ মেলার মধ্যে দিয়ে সামনে আসাছে।’
বই আমাদের প্রকৃত বন্ধু। বই কিনে কেউ কোন দিন দেউলিয়া হয় না। অথচ ইদানিং আমরা বই কিনতে কৃপণতা বোধ করি, যা উচিত না বলেও জানান শাহীন নামের এ শিক্ষার্থী।
বই মেলায় থাকা স্টলগুলোতে শোভা পাচ্ছিল নানান ধরণের বই। কাকলী প্রকাশনীর স্টলে থাকা বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হলো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র যথাক্রমে শেষের কবিতা, চোখের বালি, নৌকাডুবি, গীতাঞ্জলী, সোনার তরী, হুমায়ুন আহম্মেদ’র যথাক্রমে কোথাও কেউ নেই, কবি, আঙুল কাটা জগলু, আমার ছেলে বেলা, দ্বৈরথ, জাফর ইকবাল’র যথাক্রমে তিতুনি এবং তিতুনি, একটু খানি বিজ্ঞান, আমার বন্ধু রাশেদ, বুবুনের বাবা, আনিসুল হক’র যথাক্রমে মায়ের জন্য ভালোবাসা, ভালো বেসে তোমাকে দিলাম, মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
ইউনির্ভাসিটি প্রেস লিমিটেড এর স্টলে থাকা বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হলো শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়’র দেবদাস, শ্রীকান্ত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।
মেলার আয়োজক ও কৈশোর তারুন্যে বই’র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জাকির হোসেন সোনার দেশকে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য আমরা বইকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংস্পর্শে আনা। সেই লক্ষ্যে আমার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বইমেলার আয়োজন করছি।’
১৩ ও ১৪ মার্চ নগরীর পিএন গালর্স স্কুলে এবং ১৫ ও ১৬ মার্চ নগরীর অগ্রনী স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গনে কৈশোর তারুন্যে বই’র আয়োজনে বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলেও সোনার দেশকে জানান কৈশোর তারুন্যে বই’র যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জাকির হোসেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ