রাজশাহী কারাগারে তৈরি হচ্ছে বেকারিপণ্য ।। চায় বিএসটিআই-এর অনুমোদন

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে চালু হয়েছে আধুনিক বেকারি পণ্যের কারখানা। গত নভেম্বরে চালু হয়েছে এটি। তবে রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআই এর অনুমোদন না পাওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারছে না কারখানাটি। উৎপাদনে গেলে এটিই হবে উত্তরাঞ্চলের কারাগারগুলোর মধ্যে প্রথম বেকারি  কারখানা।
সম্প্রতি দৃষ্টিনন্দন কমলা টি-টেবিল বানিয়ে সাড়া ফেলেছে এ কারাগার। এর বাইরে অন্তত ২৩৫ ধরনের  বিভিন্ন কারুপণ্য প্রস্তুত করছেন বন্দিরা। যা কারাগারের নিজস্ব স্টলে বিক্রিও হচ্ছে। গত অর্থবছরে এ থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া নতুন করে পুরুষ ও নারী বন্দিদের প্রশক্ষণে আলাদা পার্লার চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এখানে ২০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী বন্দি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। এর বাইরে প্রতি তিন মাস অন্তর ১৮ জন করে বন্দিকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারামুক্তির পর স্বাবলম্বী করতেই বন্দিদের নিয়ে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার।
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, কারাবন্দিদের সংশোধনাগার হিসেবে কাজ করছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার। এরই অংশ হিসেবে তাদের দেয়া হচ্ছে কর্মমুখি নানান প্রশিক্ষণ। সর্বশেষ বেকারি পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বন্দিদের। রাজশাহীর প্রসিদ্ধ বেকারি পণ্য প্রস্তুতকারী ‘বিশাল’ তাদের সর্বিক সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কারখানায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। আপাতত পাউরুটি, কেক, বিভিন্ন ধরনের বিস্কুটসহ যাবতীয় বেকারিপণ্য তৈরি হচ্ছে। তবে তা রয়েছে সীমিত পর্যায়ে। এখানে আপাতত দশজন কারাবন্দি কাজ করছেন। তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বাইরে থেকে আসা প্রশিক্ষক। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে এখানে আরো প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন হবে।
সিনিয়র জেল সুপার বলেন, এরই মধ্যে তারা বিএসটিআই এ আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো অনুমোদন মেলে নি। এতে আটকে আছে বাণিজ্যিক উৎপাদন। এটি চালু হলে সাশ্রয়ি দামে মানসম্মত পণ্য পাবে রাজশাহীবাসী।
তবে বিষয়টি এখনো যাচাই বাছাই চলছে বলে জানিয়েছে, বিএসটিআই এর রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক এবিএম মর্তুজা হোসেন শাহ। উৎপাদিত খাদ্যের মান পরীক্ষার পরই তাদের এ অনুমোদন দেয়া হবে। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে রাজশাহী বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের দফতর জানিয়েছে, বিভাগের আটটি কারাগার নিয়ে আলাদা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে কারা বিভাগ। বিভাগের বড় কারাগারগুলোতে রয়েছে উৎপাদন বিভাগ। এতে বিভিন্ন কারুপণ্য প্রস্তুত করেন বন্দিরা। এছাড়া বিভিন্ন কর্মমুখি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয় বন্দিদের। এর বাইরে প্রাথমিক শিক্ষা, গণশিক্ষা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা হয় তাদের। কারাগারে প্রশিক্ষণ পাওয়া অনেকেই মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠাও পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ চলছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। এর বাইরে বগুড়া, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ কারাগারেও সীমিত পরিসরে কাজ করছে উৎপাদন বিভাগ। এর মধ্যে বগুড়ায় নারী বন্দিদের বিউটিশিয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। আর পুরুষ বন্দিরা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন টাইল্স ফিটিং ও রঙ মিস্ত্রির। আর নওগাঁয় কাঠ মিস্ত্রি ও সিরাজগঞ্জে টেইলারিং এ প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পুরুষ বন্দিরা। কারাগারে প্রশিক্ষণ পাওয়া অনেকেই মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠাও পেয়েছেন।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত ছোট চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, পাবনা ও নাটোর কারাগারে শুধুমাত্র চালু রয়েছে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম। এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা, গণশিক্ষা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা হয় তাদের। টিপসই দিয়ে কারাগারে আসা বন্দিরা বেরিয়ে যান রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে। এ কর্মকা-ে বেশি এগিয়েছে নাটোর জেলা কারাগার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ