রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কের সংস্কার মার্চে || ভোগান্তি কমবে, বরাদ্দ সাড়ে ২১ কোটি টাকা

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ফাইল ছবি
যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে আগামি মার্চে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১০ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাহেদা খানম রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কটি পরিদর্শন করেছেন। এ দিন তিনি দ্রুত সড়ক সংস্কার শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এর আগে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়।
সওজের এই কর্মকর্তা বলেন, সড়কটির অবস্থা খুব খারাপ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আগামি মার্চেই এর সংস্কার শুরু হয়ে জুনে শেষ হবে। সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতো খারাপ, সেটিকে সংস্কার না বলে পুনঃনির্মাণ বলায় ভালো হবে। পুরো সড়কটি নতুন করেই নির্মাণ করতে হবে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার করা হয়নি মহাসড়কটির। ৪৫ কিলোমিটার এ মহাসড়কের গোদাগাড়ী উপজেলা সদর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোডের মুখ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এ অংশটি হয়ে উঠেছে সাক্ষাৎ মরণফাঁদ।
দীর্ঘ সময় ধরেই খানাখন্দের মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঘটছে প্রাণহানি। মাঝে মাঝে পাথর কুচি আর গুঁড়া ইট ফেলে তার ওপর পিচ ছিটিয়ে গর্তগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু তা সাতদিনও স্থায়ী হচ্ছে না। মহাসড়কে আবারো ফিরছে চেনা দুর্ভোগ। এভাবেই গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে সীমাহীন দুর্ভোগকে সঙ্গী করে লাখো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করছে সড়কটি দিয়ে।
রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি বর্তমানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। অথচ সোনামসজিদ স্থল-বন্দরের আমদানি-রফতানির নিকাশ পথ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি হালকা ও ভারি যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশের আমদানি-রফতানিও মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে প্রতিকূল প্রভাব।
এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের তিন বছরেরও বেশি সময় বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন বলেন, টেন্ডার পদ্ধতির জটিলতার কারণেই সড়কটি সংস্কারে কয়েক মাস দেরি হয়েছে। তবে সবকিছু গুছিয়ে উঠে আগামি মার্চেই কাজ শুরু হবে।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা থেকে গোদাগাড়ী পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটারে কোনোভাবে যান চলাচল করতে পারলেও গোদাগাড়ী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোড মুখ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটারের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এই ২৫ কিলোমিটারে দুই হাত পরপর গর্ত। এ অংশে সড়কের ওপর কোনো কার্পেটিং অবশিষ্ট নেই। হাতনাবাদ, বালিয়াঘাটা ও দারিয়াপুর অংশে কার্পেটিং তুলে ইট বিছিয়ে হেরিংবন্ড করা হয়েছে।
কামারপাড়া, বাসুদেবপুর, সুলতানগঞ্জ, অভয়া ও জাহানাবাদ এলাকার পুরোটাই খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহন চলাচল করছে থেমে থেমে। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কটি অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ে এক ঘণ্টা লাগলেও বর্তমানে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলে যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ