রাজশাহী-ঢাকা রেলপথে পণ্য পরিবহণ ।। উন্নয়নের স্বার্থেই বিবেচনার দাবি রাখে

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

একটি দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। শক্তিশালী যোগাযোগ সম্পর্ক না থাকলে অন্যান্য অবকাঠামো-ক্ষেত্রগুলোও কার্যকর হতে পারে না। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে।
অগ্রসর খাত হিসেবেই পরিবহণ সেক্টরকে বিবেচনা করা হয়। পরিবহনের উন্নত নেকওয়ার্ক গণমানুষের স্বচ্ছন্দ্য ভ্রমণই নিশ্চিত করে নাÑ পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বলতে গেলে পরিবহণ সেক্টর উন্নয়নের চাকাকে সচল রাখে এবং একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সেই পরিবহন ব্যবস্থায় রেলপথ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র বিরাজমান। এখানে রেলপথে পণ্য পরিবহণের ব্যাপারটি এখনো সে ভাবে গুরত্ব পায় নি। অথচ অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এই রেলপথ। কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রেলপথে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে  অব্যবস্থা, উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়।
দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, রাজশাহী থেকে ঢাকায় রেলপথে পণ্য পরিবহণের কোনো ব্যবস্থা নেই। পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন পণ্য পরিবহণে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হয় এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের। রাজশাহী থেকে অন্যান্য রুটে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলেও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা রেলপথে পণ্য পরিবহণ না করে সড়কপথে পণ্য পরিবহন করছে। এতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে গ্রাহক হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
এক সময় রাজশাহী থেকে ঢাকা রেলপথে পণ্য পরিবহণের অনুন্নত হলেও ব্যব্স্থা ছিল এখন সেটাও নেই। রাজশাহীতে মালামাল উঠানো-নামানোর জন্য গড়ে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করত, এখন ৫ জন শ্রমিক কাজ করে। কাজই নেই, শ্রমিক এসে কী করবে।  বর্তমানে  মাসে গড়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৮০ হাজার টাকার মতো রাজস্ব আয় হয় পণ্য পরিবহন করে। একবারে রাজশাহী স্টেশন থেকে তিন হাজার টাকার বেশি পণ্য বুকিং হয় নি।
কেন এই করুণদশা? এমনটি হওয়ার কথা নয়Ñ বরং ব্যবসায়ীরা রেলপথকেই প্রথম অগ্রাধিকার দিয়েই তাদের পণ্য পরিবহণের ব্যাপরটি চিন্তা করার কথা। বাস্তবে তা হচ্ছে না কেন?  রেলকে লাভজনক, কার্যকর সক্ষম করে গড়ে তুলতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্যপরিবহণ সেবাকে আকর্ষণীয় করার কোনো উদ্যোগ নেই। এর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা কাটিয়ে তোলোরও কোনো চেষ্টা নেই- এটা রহস্যজনক ব্যাপার। রেলপথে পণ্য সেবার অর্থই হলো সুলভ মূল্যে, নির্দিষ্ট সময়ে এবং অক্ষত  পণ্য গন্তব্যে পৌছে দেয়া। এটি নিশ্চিত করতে পারলেই ব্যবসায়ীরা নিঃসন্দেহে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেলপথকেই অগ্রাধিকার দিবেন।
রাজশাহী শিল্পে ও বাণিজ্যে এখনো দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চ্ট্গ্রাম ও মংলাবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে পণ্য পরিবহণে রেলপথের উন্নত যোগাযোগ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাথতে পারবে বলেই আমাদের ধারণা। রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে এ অঞ্চলের সাথে উন্নত রেল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন বলে আমরা দাবি রাখি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ