রাজশাহী থেকে ছেড়েছে দূরপাল্লার বাস || আন্তজেলা রুটে অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেয়ার অভিযোগ

আপডেট: June 1, 2020, 11:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক :


নগরীর শিরোইল বাসটার্মিনালে যাত্রীদের থার্মোমিটার স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করে উঠানো হচ্ছে-সোনার দেশ

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রাজশাহী শহর থেকে সোমবার (০১ জুন) ছেড়েছে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস। তবে বাড়তি ৬০ শতাংশ ভাড়া নিয়ে দূরপাল্লার যাত্রীদের তেমন অভিযোগ না থাকলেও আন্তজেলা রুটের যাতায়াতকারী বাসের সুপারভাইজারের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, আন্তঃজেলা রুটে যাতায়াতকারী অনেক বাসে অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেয়া হয়েছে। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধিমালা।
নগরীর শিরোইল বাস কাউন্টার ও যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিটি টিকিট কাউন্টারের প্রবেশ মুখেই জীবাণুনাশক পাদানি, স্প্রে ও হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাস ছাড়ার আগে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সিট ও হাতল জীবাণুমুক্ত করতে দেখা গেছে। হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে বাসের মধ্যে প্রবেশ করানো হচ্ছে। একটি সিট ফাঁকা রেখে আরেকটি সিটে যাত্রী বসানো হয়েছে। ফলে এক যাত্রী থেকে আরেক যাত্রীর শারীরিক ব্যবধান থাকছে দুই সিট। যা নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফিট। এভাবে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যে। তবে আন্তঃজেলা রুটে যাতায়াতকারী বাসে অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ করেন নাটোর জেলা থেকে আগত নাম প্রকাশে ইচ্ছুক না কয়েকজন যাত্রী। তারা জানান, আগে ৫০ টাকা নেয়া হতো। আর ডাবল ভাড়া পর্যন্ত নিচ্ছে সুপারভাইজাররা। আবার নাটোর থেকে রাজশাহীতে আসতে ঘনঘন যাত্রী উঠানামাও করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। তাহলে আমরা ঝুঁকির মধ্যে কেন বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হবো।
বাসে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার শর্তে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। যা সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিআরটিএ নির্দেশিত নতুন ভাড়ার অনুযায়ী দেখা গেছে, বাসের ভাড়া নন-এসি ঢাকা-নাটোর ৭২০ টাকা, ঢাকা-রাজশাহী ৮৬০ টাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শিবগঞ্জ ১ হাজার ৮০ টাকা। এসি বাসের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা-নাটোর ১ হাজার ৬২০ টাকা, ঢাকা-রাজশাহী ১ হাজার ৮০০ টাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ হাজার ৯৮০ টাকা। ফিরতি রুটেও একই ভাড়া প্রযোজ্য।
নগরীর সুলতানাবাদ এলাকার চাকরিজীবী শহিদুল ইসলাম জানান, একরকম বাধ্য হয়েই বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হচ্ছে। ছুটি শেষ হয়ে গেছে। ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায়নি। তাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে রওনা হয়েছেন ঢাকার পথে। স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর্যন্ত এ অবস্থা থাকলে বাড়তি ভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকবে না।
শিরোইলে বাসস্ট্যান্ডে থাকা হানিফ এন্টার প্রাইজের টিকিট মাস্টার বাবুল ইসলাম বলেন, পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা কাউন্টারের সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কাউন্টার ও বাসের মধ্যে। নির্দেশনা অনুযায়ী অর্ধেক যাত্রী নিয়েই প্রতিটি বাস রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছে। এজন্য সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এখানে তাদের কিছু করার নেই।
নগরীর নওদাপাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল শুরু করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জয়পুরহাট রুটের আন্তজেলা বাস সার্ভিস। কিন্তু বাসের ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। বাড়তি ভাড়ার কারণে বাসযাত্রায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকেই। জরুরি কাজ ছাড়া কেউই বাসে যেতে চাইছেন না। নিরাপদ ভ্রমণ ও বাড়তি ভাড়ার কোনো ঝামেলা না থাকায় ভরসার একমাত্র বাহন হিসেবে এখনো ট্রেনই বেছে নিচ্ছেন সবাই। কিন্তু ট্রেনেও অর্ধেক যাত্রী নেয়াতে চাপ পড়ছে বাসে। আর ঝুঁকি নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে ছুটছেন যাত্রীরা।
নগরীর ভদ্রা মোড়ে আন্তজেলা রুটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাসেই গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে।
সাইফুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, প্রাইভেট জব করি। দুই মাস পর কাল অফিস করবো। তাই ভয় ও আতঙ্ক নিয়েই যাত্রা করতে হচ্ছে। ভাড়া বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রতিটি আসনে একজন যাত্রী থাকায় কিছুটা স্বস্তি লাগছে। এছাড়া বাসে স্বাস্থ্যবিধিও বেশ মানা হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীর বালিয়াপুকুরে বসবাসরত অটোরিকশা চালক মোতলেবুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে ঢাকায় থাকেন। তিনি সন্তান সম্ভাবনা। তাই স্ত্রীকে ঢাকায় পাঠাচ্ছি। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যেই বাধ্য হয়ে পাঠাচ্ছি। ভাড়া অনেক বেশি। কিন্তু উপায় তো নেই তাই যেতে হচ্ছে।
একতা এক্সপ্রেসের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী হয়ে আমাদের ৩০টি বাস ঢাকায় চলাচল করছে। সকাল ৬ টা থেকে বাস চলাচল করছে। অন্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই বাস যাচ্ছে। প্রতিটি বাসের মোট আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে। ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ৪৮০ টাকা থেকে ৭৬০ টাকা করা হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাস চালাচ্ছি। পুরো কাউন্টার ও বাসে জীবাণুনাশক স্প্রে করছি।
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন কাজল বলেন, ঠিকমত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বাস চলাচল করছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দূরপাল্লার ও আন্তজেলা বাস চলাচল সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে। অন্য স্বাভাবিক সময়ে রাজশাহী থেকে ২৫০টি বাস চলাচল করলেও এখন ১০০ থেকে ১৫০টি বাস চলাচল করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ