রাজশাহী নগরীর বাস্তবতা এবং কিছু মানবতা

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২১, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

ডা. আব্দুর রশিদ মন্ডল:


আজকের লেখা কোনো তোষামদি কিংবা কারো গুনকীর্তন নয়। সরলভাবে যা বলার চেষ্টা করছি তা বাস্তবতা- দর্শনেই বলছি। আমাদের প্রিয় রাজশাহী মহানগরীর কিছু চালচিত্র যা নগরবাসীর মুখেই সুরাসুর হচ্ছে। এমন ঝকঝকে তকতকে পরিচ্ছন্ন নগরী মানুষ কয়েক বছর আগেও দেখেনি। চিপাচাপা রাস্তাগুলি প্রশস্ত করা হচ্ছে। অনেকগুলি বেশ প্রশস্ত করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সব কিছুর যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। আরো অনেক বড় বড় উন্নয়নমুখি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে যা সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে। ইপিজেড নিয়ে দীর্ঘ দিনের দাবি- নতুন শিল্পনগরী গড়ে তুলে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা, তুলনামূলক রাজশাহী মহানগরীর কলেবর বৃদ্ধি ইত্যাদি খুবই জরুরি। রাজশাহী মহানগরী তুলনামূলকভাবে অনেকটাই ছোট। এই কাজগুলিও সিটি কর্পোরেশনের কার্য তালিকায় গুরুত্ব বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যাহোক মহানগরবাসী আশা রাখতে পারে যে পর্যায়ক্রমে প্রতিশ্রুত সকল উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদিত হবে। নগরপিতা জনাব এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান (লিটন) মহোদয়ের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘চলো বদলে দেই রাজশাহী’Ñ সত্যিই বদলে যাচ্ছে। পক্ষ-বিপক্ষ কোনো পক্ষই এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবেন না এবং সুযোগও হয়তো কেউ পাবেনা।
এমন লিখনি পড়ে অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন যে, আমি সুবিধা পাইবার জন্য এমন কথা বলছি কিন্তু না আমি কোনো দিন কোনো সুবিধার আশাও করিনি। বর্তমান কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে গোটা দেশের মানুষ নানাদিক থেকে বেসামাল অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। আমাদের রাজশাহী মহানগরীও তার থেকে বাদ যায়নি। অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে নিদারুণ খাদ্য সংকট তথা আর্থিক দৈন্য-দশায় ভুগছেন। এখানেও লক্ষনীয় দিক যেটি, তাহলো নগরপিতা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তাঁর সাধ্য মোতাবেক নিজ নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন- নিরন্ন মানুষকে খাদ্য সহায়তা, অর্থ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু কি তাই? তাঁর গোটা পরিবার এই কাজগুলি করে যাচ্ছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে। আল্লাহ তাদেরকে সুস্থ রাখুন। সুস্থতা দান করুন আমাদের নগরবাসী এবং দেশবাসিকে। এইতো কিছুদিন আগে রংপুর মহানগরী ঘুরে এলাম। সেখানকার উন্নয়ন বিশেষ করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা দেখে নিজকে একটু অহংবোধ মনে হলো- তাদের তুলনায় আমরা কত ভাল আছি। আমরা আরো ভালো থাকবো এ আশাই করছি।
যাহোক প্রসঙ্গত কারণে অন্য একটি আলোচনায় যাচ্ছি, তা হলো রাজশাহী জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মো. আব্দুল জলিলÑ যার গুনকীর্তন মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। তিনি খুবই ভাল মানুষ। একজন সরকারি কর্মকর্তা ভালো মানুষের তকমা পাওয়া কম বড় কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এরকম ভালো ভালো কর্মকর্তার আর্বিভাব হতে থাকলে তাঁরই স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সহায়ক হবে। আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে সামনা সামনি কখনও দেখেনি। পেপার পত্রিকায় তাঁর কর্মকা- এবং ছবি দেখেছি। তবে গত ১৬ কিংবা ১৭ জুন ২০২১ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আমার একটি নিজের কাজের জন্য সাক্ষাতের অপেক্ষায় অফিস কক্ষের সামনে বসে ছিলাম। সেখানে আরও কয়েকজন সাক্ষাৎপ্রার্থী বসেছিলেন। আমি কেন সেখানে গেলাম সেটাও একটু উল্লেখ করা দরকার। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। আমার কোথাও কোনো বসবাসের জন্য বাড়িঘর নেই। তবে পবা উপজেলার ভুগরইল এলাকায় ০.৭০০ একর একখ- মাটি আছে। যা মাটিয়াল হিসাবে উল্লেখ করা আছে। ওই মাটি অবশ্য কালক্রমে ভিটা মাটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ওই মাটিতে বাড়িঘর করার সিদ্ধান্ত নিলে প্লান পাশে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নেয়ার পরামর্শ দেন। পদাধিকার বলে এই শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র জেলা প্রশাসক মহোদয়ের। সে মোতাবেক ২৩/০৫/২০২১ একটি আবেদন দাখিল করি এবং ডিসি মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তার অফিস কক্ষের সামনে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের বসার রুমে অপেক্ষা করতে থাকি। সেখানে আরও কয়েকজন দর্শনার্থী বসে ছিলেন। কিছু সময় পর ডিসি স্যার বের হয়ে সকলের দিকে তাকালেন এবং সরাসরি আমার সামনে এসে বললেন, আপনি কি কাউকে খুঁজছেন? আমি বললাম, ডিসি স্যারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবো। তিনি নিজের তর্জনি আঙ্গুল নিজের দিকে বাঁকা করে বললেন, আমি ডিসি, বলুন আপনার কী সমস্যা? তখন আমি অপ্রস্তুত হয়ে যায়। স্বয়ং ডিসি আমার সামনে এসে বলছেন আমিই ডিসি, বষুন আপনার কী সমস্যা! সাধারণত এমনটি আমরা দেখে অভ্যস্ত নই। আমি আমার জমির শ্রেণ্রি বিন্যাসের আবেদন জমা দেয়ার কথা বলি। তিনি সবকিছু শুনে বললেন যে, ওটা আমি দেখবো চিন্তা করবেন না। অন্তরে প্রশান্তি আসলো। ভাবলাম আমাদের বর্তমান মেয়র মহোদয় এবং জেলা প্রশাসক মহোদয় দুজনই আমাদের জন্য আর্শীবাদ! আল্লাহ ওনাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে দিন এবং দীর্ঘায়ু দান করুন। তবে এখনও আমার আবেদনের ব্যাপারে কিছু জানতে পারিনি। শেষকথা কল্যাণ এবং মানবতা সকলের ভাগ্যে জোটে না। বিশ্ব প্রভুই এর নিয়ন্ত্রক। তিনি যাকে দিয়ে যে কাজ করাবেন সেই শুধু তা করতে পারবেন।
লেখক : হোমিও চিকিৎসক, ডিএইচএমএস