রাজশাহী বাজারে এক সপ্তাহের হালচাল বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

আপডেট: মে ২১, ২০২২, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সপ্তাহের ব্যবধানে, বাজারে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এ সপ্তাহে চাল, ডাল, মশলা, আটা ও মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কেনাকাটায় স্বস্তি নেই বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (২০ এপ্রিল) নগরীর বাজারগুলোতে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া পণ্য দামে স্থির থাকলেও নতুন করে কিছু পণ্যের দাম বাড়তি দেখা গেছে। ইদের আগে মাংস ও তেলের দাম, ইদের পরের সপ্তাহে সরিষার তেল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজ ও শাকসবজির বেশি দাম আর এ সপ্তাহে চাল, ডাল, মশলা, মাছ বেশি দাম বাড়তি দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চালের বাজারে প্রতি কেজি চালে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। প্রতি কেজি আটায় বেড়েছে ১০ টাকা। মাছের বাজারে প্রতি কেজি মাছে ৩০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি ডালে বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা। মশলায় বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

‘সুস্ময় চাউল ভান্ডার’-যেখান থেকে পাইকারি দরে সাধারণ দোকানিরা চাল নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, চালের দাম বেড়েছে। সামনের দিকে চালের দাম বাড়তি ছাড়া কমার সম্ভাবনা নেই।

গত সপ্তাহে আঠাশ চাল ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা এ সপ্তাহে ২ টাকা বেড়ে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখান থেকে খুচরা বিক্রেতারা কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করবে। মিনিকেটের চাল ৬২ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৬৪ টাকা, বাসমতি ৭২ থেকে ৭৫ টাকা, শরনা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মিনহাজুল নামের চাল বিক্রেতা জানান, নতুন ধানের দাম বেশি। নতুন ধান ও চাল শহরের বাজারে কম আসছে। কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা কিনছেন। তারা সেই ধান মজুদ করছেন। যখন দাম বাড়বে তখন হয়তো বিক্রি করবেন। সয়াবিন তেলের মতই ধানও মজুদ করা হতে পারে। যদি বাজারে সঠিকভাবে সরবরাহ হয় তাহলে দাম বাড়বে না।

অন্যদিকে, মেসের বাজার করতে এসেছেন নাহিদ হাসান। লিটন স্টোরে ডালের দাম নিয়ে দরকষাকষি করছেন। তার সাথে কথা বলে জানা গেল, মশলা ও ডালের দামও বেড়েছে।

নাহিদ হাসান দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকাকে জানান, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি হচ্ছে। বৃদ্ধির পর কমছে না বরং যেগুলোর দাম কম আছে সেগুলোর দাম আবার বাড়ছে। প্রতি কেজি ঝালের গুড়ায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ঝালের গুড়া ৩১০ টাকা কেজি দাম শুনেই গেছি। আজ এসে শুনি ৩৫০ টাকা কেজি। অন্যদিকে দেশি ডালের কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি নিয়ে গেছি।

লিটন নামের দোকানি জানান, আমদানি কম দাম বাড়বেই। এটা তো ইচ্ছে করে বাড়ানো সম্ভব না। যেমন দারুচিনি গত সপ্তাহে ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। এ সপ্তাহে ৩৪০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এলাচ ২০০ টাকা কমে ১৬০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। হলুদ গুড়া ১৫০ টাকা কেজি ঠিক আছে। জিরা কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুদিদোকানের অন্যান্য পণ্যের দাম ঠিক রয়েছে ।

নগরীর সাহেববাজার, নিউমার্কেট ও উপশহর নিউমার্কেট ঘুরে দেখা গেছে আটার দাম একেক বাজারে একেক রকম। সাহেববাজারে, নিউমার্কেটে খোলা আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। যে খোলা আটা গত সপ্তাহে ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

উপশহর নিউমার্কেট বাজারে প্রতি কেজি আটা ৫৫ টাকা। উপশহর নিউমার্কেটের মেসার্স ভ্যারাইটি স্টোর থেকে বাবু নামের একজন জানান, প্যাকেটের ১ কেজি তীর আটা ৪৭ টাকা, বসুন্ধরা ২ কেজি আটা ৯৫ টাকা। পদ্মা সান ফ্লাওয়ার জোড়া টিয়া আটা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা। যা গত কয়েকদিন আগে ৪৭ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে মাছের বাজারে পিউলি, কাটা পাতাসি ও রুই মাছ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। মাছ ব্যবসায়ী নূরল ইসলাম বলেন, মাছের সরবরাহ কম। সে তুলনায় মাছের দাম স্বাভাবিক। শুধুমাত্র প্রতি কেজি পিউলি মাছ ১০০ টা বেড়ে ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা, কাঁটা পাতাসি ১৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে জিওল মাছ ছোট ২৫০ টাকা, বড় ৪০০ টাকা, সিলভার কার্প ছোট ১২০ টাকা, বড় ২০০ টাকা, চিংড়ি নদীর ১ হাজার ৩০০ টাকা, খুলনা ঘেরের ৭০০ টাকা, শোল বড় ৬০০ টাকা, ছোট ৪০০ টাকা, বোয়াল বড় ৮৫০ টাকা, ছোট ৫০০ টাকা, পুঁটি মাছ বড় ৩০০ টাকা, ছোট ১২০ টাকা, পাবদা ৩০০ টাকা, মিড়কা বড় ২০০ টাকা, ছোট ১৫০ টাকা, বাঁশপাতা ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বর্ণালী এলাকা থেকে সাহেববাজার এসেছেন সাজ্জাদ মৃধা। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি দেখে তিনি বলেন, শাকসবজির দোকানে মূল্য লেখা নেই- এটাই মূল সমস্যা। অনেক সময় দামাদামি করার সময় থাকে না। পেঁপের দাম ৫০ টাকা মেসের একটা ছেলে কিনে নিয়ে গেল দেখলাম। এখন এসে শুনি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা।

দাম বাড়ছে কিন্তু এত বেশি বাড়ছে যা আমাদের কেনার সাধ্যের মধ্যে থাকছে না। বেতন বাড়েনি, বাজার খরচ, বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি খরচসহ পরিবারের খরচ হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কৃষি প্রধান দেশ হলেও কৃষিপণ্যে মূল্যে আগুন থাকছে। বাজারের নিত্যপণ্যের মূল্যে একর পর এক চমক থাকছেই। মনে হয় কারোর কিছু করার নেই।

শাকসবজির বাজারে পেঁয়াজ ৪০ টাকা, সজনে ৮০ টাকা, গাজর দেশি ৭০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২০ টাকা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা দেশি ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, চায়না রসুন ১৪০ টাকা , শুকনা মরিচ ৩২০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, বরবটি, ক্ষীরা, ঝিঙে ৪০ টাকা, তরই, মুলা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, আলু ১৮ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে পুইশাক, ডাটা শাক, পাটের শাক, কচু ও কলমী শাক ২০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেই সাথে তরকারি রান্না করে খাওয়া কাঁঠালের পিচ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে দামের তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে গরুর মাংস ৬৩০ টাকা থেকে ৬৫০, ছাগলের মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গোশতের জন্য ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালী ২৭০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা, পাতিহাঁস ৩৩০ টাকা, রাজহাঁস ও চিনা হাঁস ৪৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৭০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পিচ হিসেবে কোয়েল পাখি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কবুতর ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, বাজারে মুরগির লাল ডিম হালিতে ৩৮ টাকা ও সাদা ডিম ৩৫ টাকা, দেশি মুরগী ও হাঁসের ডিম ৫০ টাকা, কোয়েল পাখির ডিম ১০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ