রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশে টুকু নেতাকর্মীকে আগামীতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

আপডেট: মার্চ ২, ২০২১, ৯:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, গণতন্ত্র বারবার জীবিত হয়। আর এই গণতন্ত্র ফিরে আসবে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথ উত্তপ্ত হওয়া শুরু হয়েছে; তাই নেতাকর্মীকে আগামীতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এবং ভোট চুরি ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিএনপির এ বিভাগীয় সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (০২ মার্চ) বিকালে নগরীর কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা ময়দানে নাইস কনভেনশন সেন্টারে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শফিকুল হক মিলনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ, মজিবর রহমান সারোয়ার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত ও ওবায়দুর রহমান চন্দন, দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আপনি বলেন, ‘আমি উন্নয়ন করেছি, উন্নয়ন করেছি’। আপনি উন্নয়ন করেছেন, সেই জন্য তো ফরিদপুরের ছাত্রলীগের সভাপতি দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। একটা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যদি এতো টাকা পাচার করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী, আপনার রাঘব বোয়ালরা কত টাকা পাচার করেছে বাংলাদেশের মানুষ সেই হিসাব চায়।’
দখলদার প্রধানমন্ত্রী এক ভাচুয়াল মিটিংয়ে বলেছেন, ‘আমার জীবন স্বার্থক, আমি বাঙালিক জনতার কাছে তাদের গণতন্ত্র ফেরত দিয়েছি।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনাকে কেন জনগণের ওপর নির্ভর না করে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তাদের কর্মচারি পুলিশ অফিসার, ডিসিদের ওপর নির্ভর করতে হয়? তাহলে কি আপনার গণতন্ত্রের ডেফিনশন পরিবর্তন হয়ে গেল?
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর এই সমাবেশ করতে চাইলাম মাদ্রাসা মাঠে। কিন্তু আপনি এটিকে সংকোচিত করে নাইস কনভেনশন সেন্টারে করতে দিলেন। আপনি হয়তো ভেবেছেন, বিএনপির সমাবেশে লোক হয় না। আপনি নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছেন, আপনার ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে দেখেন সমাবেশে লোকে লোকারণ্য।
তিনি বলেন, ‘আপনি সকালে যখন রাজশাহীতে নামলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাস্তাঘাট যেমন ফাঁকা ছিল, রাজশাহীর অবস্থা ঠিক তেমন দেখলাম। কীসের ভয়। আপনি তো গণতন্ত্র দিয়ে দিয়েছেন। তারপরও কিসের এতো ভয়?
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘ফেরাউনসহ সবার পতন হয়েছে। আপনারও পতন হবে এই রাজশাহী থেকে। বাংলাদেশে ৫২ তে রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। ৫৪ থেকে ৬৯ রে রাজপথে ফায়লাসা হয়েছে। ৯১ এ রাজপথে ফায়সালা হয়েছে। প্রস্তুত হন এই রাজপথে ফায়সালা হবে। গণতন্ত্র হারিয়ে যাওয়া জিনিস না, কারো পকেটের মোয়া না। গণতন্ত্র বার বার জীবিত হয়।’
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ঝাপিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে দেখছি সেই পুলিশ বাহিনী আর আজকের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোনো মিল নাই। তখনকার পুলিশ বাহিনী ছিল বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের অগ্রসৈনিক। ২৫ তারিখ রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সিপাহীরা। আজকে বাংলাদেশের পুলিশ একটা দলের কর্মী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, হাসিনা সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। হাসিনা সরকার ভারতের পুতুল সরকার। হাসিনাকে চালায় ওই ভারতের মৌলবাদী সরকার মোদি, তার গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। তাদেরকে চালায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী রাজপথে থেকে দেশনেত্রী হয়েছেন। তাকে বের করে আনবো, মুক্তি চাই না, হাসিনা, রেডি হও। আজ সন্ধ্যা, কাল সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই, ৭৫ সাল। এই পুতুল সরকারের সাথে আমাদের কোনোকিছু নাই। আমরা লড়াই করছি ভারতের মোদির সঙ্গে, মোসাদ ইসরাইলের সঙ্গে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের নামে দেশে কী হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরে একটা আনন্দঘন ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু তার পরিবর্তে দেশে এই অনির্বাচিত সরকার গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ, মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ, ভোটের অধিকার হরণ করেছে। মানুষের এসব অধিকার ফিরিয়ে আনতে আজ আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে এসেছি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে কালো আইন করেছে সরকার। জিয়াউর রহমানের খেতাব নিয়ে সরকার তামাশা করছে। আজ বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরকারের ক্ষমতায় নাই। তাই এই অবৈধ সরকারকে উৎখাত করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন এমপি হারুন অর রশিদ বলেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী কয়েক হাজার ভোট পায়, আর বিএনপি প্রার্থী পায় মাত্র ৯৮ ভোট। এটি কি আদৌ সম্ভব? মানুষ বুঝে। কাজেই এই সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন নয়।
বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ আরও বলেন, আমাকে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসতে বেশ কয়েকবার বাঁধা দেওয়া হয়েছে। আমি পুলিশ বাহিনীকে বলেছি, ‘আমাকে গ্রেফতার করুন, তা না হলে যেকোন ভাবেই আমি সমাবেশে যাবো।
তিনি আরও বলেন, আমি আসার সময় দেখলাম রাজাবাড়িতে শতশত অটোরিকশাকে আটকে দেওয়া হয়েছে। যারা চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে আসতে চেয়েছিলো, তারা শেষ পর্যন্ত আসতে পারেনি।
এদিকে রাজশাহী মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। মঙ্গলবার (২ মার্চ) ঢাকা থেকে রাজশাহীর সমাবেশ স্থলে আসার পথে পুঠিয়াতে পুলিশ তার গাড়িবহর আটকায় এবং সেখানে তাকে রাজশাহীতে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাবিথ আওয়াল সমর্থকদের বাকবিত-া হয়।