রাজশাহী মেডিকেলে বাঁশ ব্যবহারে জড়িত প্রোপার্টি লিফটস!

আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রামেক হাসপাতালে ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। বিষয়টি প্রকাশের পর বাঁশ ব্যবহারের স্থানটি প্লাস্টার করে দেয়া হয় ( গোল চিহ্নিত)। ছবিটি গতকাল সকালে তুলেছেন ফটোসাংবাদিক শরিফুল ইসলাম তোতা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনে লিফট লাগানোর স্থানে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি লিফটস লিফট বসানোর কাজে বাঁশের এ ব্যবহার করেছে। এর আগে ওই ভবন নির্মাণ কাজ করেছিলো মার্ক বিল্ডার্স। যারা ২০১২ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে সন্তোষজনক সার্টিফিকেট গ্রহণ করে।
জানা গেছে, মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেড রামেক হাসপাল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০০৮ সালে। তারা উন্নতমানের মালামাল ব্যবহার করে ৩০ জুন ২০১২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করে। গণপূর্ত বিভাগের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর মার্ক বিল্ডার্সকে তাদের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে সনদ প্রদান করে।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এরপর ওই ভবনে লিফট স্থাপনের কাজ পায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি লিফটস বাংলাদেশ। তারা আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে ৩০ জুন ২০১৬ তে লিফট এবং লিফটের পাশের ওয়ালে টাইলস বসানোর কাজ সমাপ্ত করে। এই প্রতিষ্ঠানটিই সেখানে বাঁশ ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্ক বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিনুল হক তার প্রতিনিধির মাধ্যমে রাজশাহী প্রেসক্লাবে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, মার্ক বিল্ডার্স সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় বিশেষ শ্রেণির ঠিকাদার। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকসহ বিদেশি নানান সংস্থার অর্থায়নে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজশাহী র‌্যাব কমপ্লেক্স, সিলেট র‌্যাব কমপ্লেক্স, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুডিশিয়াল ভবন, সিলেটে মেরিন একাডেমিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবন নির্মাণ করছে মার্ক বিল্ডার্স। কোথাও কোনো অভিযোগ নেই এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। কিন্তু কয়েকটি সংবাদপত্রে রাজশাহী মেডিকেলে বাঁশ ব্যবহার সংক্রান্ত সংবাদে এই প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেছে যা আদৌ সঠিক নয়।
অন্যদিকে এ-ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের রক্ত সঞ্চালন বিভাগের চিকিৎসক মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। আগামী রোববার তারা প্রতিবেদন দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এএফএম রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে যোগ দেয়ার আগে ভবনটি নির্মিত হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।