রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন দ্রুতই হচেছ ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি রাসিক মেয়রের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন

আপডেট: জুন ১৫, ২০২২, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় অনুমোদিত হয়েছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহুল প্রতিক্ষিত ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) প্রকল্প’ এর ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি)।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইডি) স্থাপনসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৮৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৯৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৫৬ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি তহবিল থেকে খরচ করা হবে।

রাজশাহী মহানগরীর বড়বনগ্রম, বারইপাড়া ও বাজে সিলিন্দা মৌজার প্রায় ৬৮ একর জায়গার উপর নির্মিত হবে দেশের প্রথম পরিকল্পিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে এখানে ১০ টি অনুষদের অধীন ৬৮ টি বিভাগের মাধ্যমে প্রতিবছর ৭৮০ জন গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থী শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া বিশ^বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে এখানে ডাক্তার-নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর দ্বারা উত্তর অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষ উন্নত চিকিৎসার আওতায় আসবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হলে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বহির্গমনের ফলে প্রতিবছর ব্যয়িতব্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং এই নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

রামেবির উপাচার্যের একান্ত সচিব মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, অতিদ্রুতই শুরু হবে জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রক্রিয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ১২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল, ডে-কেয়ার সেন্টার, কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি, ভিসি’র বাসভন, ডরমেটরি, মেডিকেল গ্যাস প্ল্যান্টসহ মোট ২১ টি গুরুত্বপূর্ণ ভবন নির্মিত হবে।
প্রকল্প অনুমোদনের পর রামেবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন সোনার দেশকে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীসহ একনেক সভার সকল সদস্য, পরিকল্পনা কমিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি রাজশাহীর নগরপিতা এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন এর প্রতি। যার সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রকল্পের কাজকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১ সালের ২৭ মে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে কর্মরত আছেন।