রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদন এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় অভুতপূর্ব সাফল্য

আপডেট: জুন ১৬, ২০২২, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়’ স্থাপন প্রকল্প। যা এরইমধ্যে অনুমোদন হয়ে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। প্রায় দুই কোটি মানুষকে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এ প্রকল্পটি আগামী মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। যার সুফল সারা দেশের মানুষ পাবে।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজশাহী জেলা ও আশেপাশের প্রায় দুই কোটি মানুষকে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ২০১৭ সালে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২১টি আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা ও আশেপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এক হাজার ২০০ শয্যা নির্মাণ হবে।
প্রকল্পের অধীনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৩ হাজার ৭০৭ বর্গমিটারের ১৬টি অনাবাসিক ভবন এবং ১ লাখ ৬ হাজার বর্গমিটারের পাঁচটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রায় দুই হাজার অফিস সরঞ্জামের পাশাপাশি আইসিটি সরঞ্জাম, ৫০টি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ৪টি আইসিটি সফটওয়্যার কেনা হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়। এতে সেবার পাশাপাশি নতুন কর্মক্ষেত্রেও তৈরি হবে। কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
বর্তমানে বিভাগীয় শহরে অবস্থিত রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতাল এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। হাসপাতালটিতে ধারণ ক্ষমতা, জনবল ও সক্ষমতার চেয়ে দ্বি-তিনগুন রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এতে চিকিৎসার মান নিয়েও প্রায়শই অসন্তুষ্টি দেখা যায়। মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সেবার পরিসর যেমন বাড়বে, উন্নত হবে চিকিৎসার মান। দ্রুত গতিতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ