রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দোষিরা শাস্তি পাবে কি?

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাপনা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু ঘর ফেরৎ শিক্ষার্থী একটা অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে যদিও ওই বিড়ম্বনার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মোটেও দায়ি নয়। ওই শিক্ষার্থীরা রেলওয়ের কতিপয় কর্মচারিদের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন মাত্র। এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত।
ঘটনা কী ছিল? সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এক হাজার ৩৮৭ সিটের পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে টিকিট না পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শেষে ঘরফেরৎ শিক্ষার্থীরা স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটে। এসময় ভাড়া বাবদ জনপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি নেয়া হয়। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীদের কাউকেই ট্রেনে উঠতে দেয়া হয়নি শুধু কেউ কেউ লাঞ্ছিতও হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনেই আন্দোলনের সূচনা করে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে।
স্টেশন ম্যানেজার জানান, তারা এক সপ্তাহ আগে টিকিট বিক্রি করেছেন। নতুন করে টিকিট দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। স্ট্যান্ডিং টিকিটও বন্ধ রাখা হয়েছে। এখানে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষের কোনো দোষ নেই। ভ্রাম্যমান টিটিরা ট্রেনের টিকিট ছাড়া কেউ যেন ভ্রমণ করতে না পারে সে বিষয়ে নজর রাখেন। তারা বগিগুলোতে ঘুরে ঘুরে টিকিট চেক করেন। কেউ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করলে জরিমানাসহ স্ট্যান্ডিং টিকিট দেন। কিন্তু এটারও একটা লিমিট আছে।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যারা ঢাকা যাবে তাদের কমিউটার ট্রেনে ঈশ্বরদী পর্যন্ত যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে সুন্দরবন এক্সেপ্রেসে ঢাকা যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা করা হয়। এর জন্য ট্রেনে একটি বগির ব্যবস্থা করা হয়। স্ট্যান্ডিং টিকিট দিয়ে ওই শিক্ষার্থীরা ঢাকায় যেতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারে।
কিন্তু যে বা যারা ওই শিক্ষার্থীদের স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দিয়ে রেলওয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অপমান-অপদস্তু করেছে- তারা যেন দায়মুক্তি না পান। এই গর্হিত কাজের সাথে যারা জড়িত আছেন তাদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। নতুবা এ ধরনের বিড়ম্বনার ঘটনা বারবার ঘটতে থাকবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ