রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও উন্নতি নেই রহনপুর এলসি স্টেশনের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের বিপরীতে রাজস্ব আয় দিন দিন বাড়লেও ১৯৯০ সালে স্থাপিত রহনপুর এলসি স্টেশনের অবকাঠামোগত কোন উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ভাড়া বাসায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই স্টেশনের কার্যক্রম চলে এলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণ, পরীক্ষাগার, ওয়্যার হাউস, কাস্টমস অটোমেশন, ওয়েট ব্রিজ, ডাম্প ইয়ার্ড নির্মিত হয় নি।
জানা যায়, বিগত ৫টি অর্থবছরে রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে ৪০২টি র‌্যাক ভর্তি মালামাল আমদানি করা হয়। যার ওজন প্রায় ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৪ মে. টন। ১ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৩৯ টাকা মূল্যের বিপরীতে আদায়কৃত রাজস্ব আয় ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ টাকা। এছাড়া চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ম ৬ মাসে ২২১টি র‌্যাকযোগে আনা ৫ লাখ ২০ হাজার ৩৮৭ মে. টন মালামালের বিপরীতে পণ্যমূল্য ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৪৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৯ টাকা। যার আদায়কৃত রাজস্ব ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৩ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ৯১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫৩ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বেশি। এছাড়া শুধু ডিসেম্বর/১৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ কোটি ১৯ লাখ ২৩ হাজার টাকা বেশি।
রহনপুর এলসি স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সঞ্জিত কুমার আচার্য্য জানান, রহনপুর রেলওয়ে স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ বন্দরে পরিণত হলে, এ এলসি স্টেশনের রাজস্ব আয় দিন দিন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এর আগে রহনপুর রেলবন্দরে ইয়ার্ড বৃদ্ধি, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ও ওয়্যার হাউস নির্মিত হলে আমদানি-রফতানিকারকরা এ পথে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে এ রুটে ভারত থেকে মালামাল আমদানিকারকরা জানান, এ রেল বন্দরকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে রুপান্তর করতে রেলের পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। যা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ দখলে রয়েছে। এছাড়া রেলের বিবিন্ন সমস্যার কারণে মালামাল যথাসময়ে রেলযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখানে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা থাকলে সড়ক পথেও দেশের বিভিন্ন স্থানে মালামাল পাঠানো সম্ভব হবে।