বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

রাজাকার কাদের মোল্লা ‘শহিদ’ এ ধৃষ্টতা বাংলাদেশকেই অস্বীকার করা

আপডেট: December 15, 2019, 12:58 am

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ বলে অখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম। পত্রিকাটি ১২ ডিসেম্বর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লাকে শহিদ আখ্যা দিয়ে প্রথম পাতায় সংবাদ পরিবেশন করেছে। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর পত্রিকা অফিসের ভেতরে ভাঙচুর করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ওই পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে সম্পাদকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। দৈনিক সংগ্রামের এই ন্যক্করজনক ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ হচ্ছে।
কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ বললে বাংলাদেশকেই অস্বীকার করা হয়। কাদের মোল্লা শহিদ হলে এদেশের মুত্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ রাজাকার হয়ে যায়। এটা কোনো ছোটখাটো অপরাধ নয়Ñ এটা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত। এমন অপরাধ জেনেবুঝেই করা হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রথাগত ভুল বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ভুল হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। এটা দেশ জাতি রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রশ্ন। দায়িত্বশীলদের এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। এর অন্যথার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। সহজ বোধগম্যের অংশ হিসেবে কাদের মোল্লাকে ‘শহিদ’ আখ্যা দেয়া হয়েছে। টোকা মেরে জাতির সহনশীলতার পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়েই সংগ্রাম সম্পাদক ফেঁসেছেন। এতে গণমানুষের প্রতিক্রিয়া হবে- খুবই স্বাভাবিক। পত্রিকা অফিস ভাংচুর হলো – সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। তার জন্য আইন আছে। কিন্তু সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ যা করেছে তা রাষ্টদ্রোহের অপরাধের সামিল।
একজন ঘৃণ্য রাজাকার- যে এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র চালিয়েছে, এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, হত্যাযজ্ঞ- লুটপাট চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ- ধর্ষণ করেছে এবং এসব মানবতাবিরোধী অপরাধে পাকিস্তান বাহিনীকে সহায়তা- সহযোগিতা করেছেÑ তাকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। একটি আইনি প্রক্রিয়ার ধাপে ধাপে এসে একাত্তরের কসাই নামে কুখ্যাত কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।
দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষ কুখ্যাত খুনিকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে দেশের আদালতেরও অমর্যাদা করেছে। এ দেশের মানুষের আবেগ ও সম্ভ্রমের প্রতি কটাক্ষ করেছে। একাত্তরে দৈনিক সংগ্রামের ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য। ওই সময় পত্রিকাটি এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দালাল ও পাকিস্তান বাহিনীকে নির্বিচার সমর্থন যুগিয়েছে। এ দেশের মানুষের ওপর নিষ্ঠুর হত্যা-নির্যাতনে সহায়তা দিয়েছে। স্বাধীনতার পর এই পত্রিকার ডিক্লারেশন বন্ধ হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির যে, ওই পত্রিকাকে নতুন করে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠির অনুকুলে নতুন করে ডিক্লারেশন দেয়া হয়েছে। ওই পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি যে এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যাবে এটাই স্বাভাবিক। সময় এসেছে জামায়াত সমর্থিত এবং জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের ডিক্লারেশনের ব্যাপারে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়ার। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জামায়াতে ইসলামীকে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবেই পর্যবেক্ষণ দিয়েছেনÑ সেই সংগঠনের কোনো মুখপত্র থাকা সমীচীন নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ