রাজাকার সাঈদীর মামলার দুই রিভিউ আপিল বিভাগের তালিকায়

আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া সাজার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে।
সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চের কার্যতালিকায় ১৪৭ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে এ মামলা।
যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলে সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে খালাস চেয়েছেন এই জামায়াত নেতা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বহাল চাওয়া হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাঈদীর বিচার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এরপর সাঈদী আপিল করলে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে রায় দেয়, তাতে সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ আসে।
আপিলের রায়ে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে হত্যা, নিপীড়ন, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরে বাধ্য করায় সাঈদীকে ‘যাবজ্জীবন’ কারাদণ্ড দেয়া হয়। যাবজ্জীবন বলতে ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় পর্যন্ত’কারাবাস বোঝাবে বলে ব্যাখ্যা দেয় আদালত।
এছাড়া ৮ নম্বর অভিযোগের একাংশের জন্য সাঈদীকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
এর মধ্যে ৮ ও ১০ নম্বর অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল।
আপিলের রায়ের ১৫ মাস পর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করলে বিষয়টি রিভিউয়ের পর্যায়ে আসে। এরপর গতবছর ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচদিনের মাথায় খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী।
সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মনে করি, সাক্ষী-প্রমাণ যেটা আছে, আপিল বিভাগ আমাদের সেই রিভিউ আবেদনটা পর্যালোচনা করে যে সাজাগুলো বহাল রেখেছে, সেখান থেকেও আমরা মুক্তি পাব।”
সাঈদীর আমৃত্যু সাজা তুলে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যে রিভিউ আবেদন করেছে, তার কোনো আইনি বৈধতা নেই দাবি করে খন্দকার মাহবুব বলেন, সরকার ‘চাপ’ সৃষ্টির জন্য তা করেছে।
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সে সময় সাংবাদিকদের বলেন, “কার রিভিউতে কী রকম গ্রাউন্ড আছে, তা আদালতের বিচারেই নিষ্পত্তি হবে। আমি যে গ্রাউন্ডগুলো দিয়েছি তাতে স্পষ্ট করে বলেছি, এখানে আইনের ব্যাখ্যাটা সঠিকভাবে নেওয়া হয়নি।
“আমরা বিবেচনায় রিভিউর (সরকার পক্ষের) সঠিক গ্রাউন্ড আছে এবং কোনো রকম চাপ সৃষ্টির জন্য এসমস্ত গ্রাউন্ড নেয়া হয়নি।”- বিডিনিউজ