রাজারবাগ দরবার শরিফের পীরের জঙ্গি তৎপরতা! অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক

আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০২১, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষার প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকটরূপে সামনে এসেছে। ফলে ধর্মীয় সম্প্রীতি সুরক্ষা ও এবং এই মূল্যবোধ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সরকারের নানা উদ্যোগ আছে- যা সরকারি- বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলমান আছে। কিন্তু একই সাথে থেমে নেই ধমীয়সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রচেষ্টা। নানা উপায় ও ধরনে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক তৎপরতা অব্যাহত আছে। সংবাদ মাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জঙ্গিরাও নেপথ্যে থেকেই সংগঠিত হচ্ছে এবং শক্তি সঞ্চয় করছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কয়েকটি তৎপরতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি নস্যাৎ করেছে। তবে মানুষ-মনে এ ধারণা স্পষ্ট যে ওই অপশক্তি দেশকে স্থিতিশীল করতে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে তৎপর আছে।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে জঙ্গি তৎপরতার ভয়ঙ্কর তথ্য দেশবাসীর সামনে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর দিল্লুর রহমান ও তার অনুসারীদের প্রচার-প্রচারণার কারণে নানাভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজারবাগ পীর ও অনুসারীদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্তে নামে সিটিটিসির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজারবাগ পীর ও তার অনুসারীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের নাম বদলে গোলাপগঞ্জ করে তাদের আলোচ্য পত্রিকার (দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত) মাধ্যমে প্রচার করছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন করে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও জেলার নাম পরিবর্তন করে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম পরিবর্তন করে আমানবাড়িয়া-এরকম আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে তারা নিজেদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব সারাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনের ভয়ঙ্কর দিকটি এই যে, বিভিন্ন মতাবলম্বী ও ভিন্ন ধর্মের মানুষকে, তাদের ভাষায় মাল’উনদের হত্যা করা ইমানি দায়িত্ব উল্লেখ করে ফতোয়া এবং এক্ষেত্রে কতল করার আদেশ দিয়েছে-যা মূলত বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের মানুষকে হত্যা করার ফতোয়ার অনুরূপ। এটি ইসলামের নামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর মতো একই প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের অর্থাৎ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করার ও ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করার কৌশল। তাদের এ ধরনের বক্তব্য মানুষকে জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত করবে, অসহিষ্ণু করবে, অসম্প্রদায়িক চেতনা নষ্ট করতে ভূমিকা রাখবে।
তাদের এসব কার্যক্রম সরাসরি সরকারি নীতিমালা, দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরোধী। দেশের বিভিন্ন থানায় রাজারবাগ দরবার শরিফের পীর ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলা ও মামলাগুলো তদন্তের ফলাফলে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই পরিস্থিতি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার, আতঙ্কেরও। উগ্রবাদী এই শক্তিকে সমূলে উৎপাটন জরুরি। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্কির ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে উগ্রবাদ প্রচারের দায়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ