রাজ্যসভায় ‘নো স্যার’ বলায় নিষেধাজ্ঞা, মুখের ভাষাতেও লিঙ্গনিরপেক্ষতার পথে হাঁটছে প্রশাসন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


কেবল পুরুষবাচক শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না রাজ্যসভার অধিবেশনে। লিঙ্গনিরপেক্ষতার পথে হেঁটে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যসভা সেক্রেটারিয়েট। আসুন, শুনে নেওয়া যাক।

রাজ্যসভার যে কোনও অধিবেশনে ‘নো স্যার’-এর মতো একাধিক শব্দবন্ধ বহুল প্রচলিত। যদিও এই শব্দবন্ধ লিঙ্গবাচক, অর্থাৎ কেবল পুরুষেরই উল্লেখ রয়েছে এক্ষেত্রে, কিন্তু বহুব্যবহারের কারণেই সে কথা খেয়াল করেন না অনেকেই। আসলে দেশের সংসদ এবং বিধানসভায় মেয়েদের সদস্যপদ পেতে পেতে বেশ খানিক সময় লেগে গিয়েছিল। তার আগে পুরুষ অধ্যুষিত সভাগৃহে নিয়মিত ব্যবহারের লব্জ হিসেবেই চালু হয়ে গিয়েছে এই ধরনের কিছু শব্দবন্ধ। যা একান্তই পুরুষবাচক হলেও অভ্যাসবশত তাতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগেনি এতদিন। কিন্তু সম্প্রতি অভ্যাসের সেই জগদ্দল পাথর সরিয়েই এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যসভা সেক্রেটারিয়েট। রাজ্যসভা সেক্রেটারিয়েটের তরফ থেকে একাধিক মন্ত্রিসভাকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী অধিবেশন থেকেই ব্যবহার করতে হবে লিঙ্গনিরপেক্ষ শব্দগুচ্ছ, যার মাধ্যমে একইসঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়ের উদ্দেশেই কথা বলা হবে।

কিন্তু কী কারণ ছিল এহেন পরিবর্তনের নেপথ্যে?
আসলে সম্প্রতি সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন শিব সেনা দলের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। চলতি মাসের ৮ তারিখে পাঠানো সেই চিঠিতেই তিনি জানিয়েছিলেন, অধিবেশনে অনেক সময়ই কোনও বক্তব্যের উত্তরে ‘নো স্যার’ কথাটি বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সেখানে নেতা এবং নেত্রীরা দু’পক্ষই উপস্থিত থাকেন। বিশেষ করে মহিলা সাংসদদের হাতে একাধিক মন্ত্রকেরও ভার রয়েছে। সেখানে এই শব্দবন্ধ প্রয়োগ সুতরাং এই পুরুষবাচক শব্দবন্ধ প্রত্যাহারের আরজি জানিয়েছিলেন শিব সেনা নেত্রী। তাঁর মতে, সংসদকে গণতন্ত্রের মন্দির বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ সেখানেই দিনের পর দিন ধরে এমন প্রাতিষ্ঠানিক লিঙ্গনির্ধারক শব্দ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই প্রবণতাকে বদল করারই আরজি জানিয়েছিলেন ওই নেত্রী। আর তাঁর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এবার এমন যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটল দেশের প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন