রাণীনগরের উদ্বোধনের আগেই দেবে যায় ব্রিজ ।। এক বছরেও পুনর্নিমার্ণ হয় নি

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউপি’র সবগুলো গ্রাম অবস্থিত প্রত্যন্ত এলাকায়। এই ইউনিয়নটি বিল এলাকা নামে পরিচিত। বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র উপায় নৌকা। সেচ্ছাশ্রমে তৈরি হয় একটি বাঁশের সাঁকো।

 

ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায় এই নড়োবড়ো বাঁশের সাঁকোটিই।
এ অঞ্চলের দুঃখ লাঘবে গত এক বছর পূর্বে হামিদপুর গ্রামে শ্রীমতখালী খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজের শেষ সময় মাঝের পিলারটি দেবে যায়। এতে করে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মিশে যায় ধুলায়। এর এক বছর পার হলেও এখনও পুনর্নিমার্ণ হয় নি ব্রিজটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাণীনগর উপজেলার ৮নম্বর মিরাট ইউপি অত্যন্ত অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত এলাকা নামে পরিচিত ছিলো। যুগ যুগ সময়ে এতটুকু উন্নয়ন করা হয় নি এই এলাকার। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই এলাকায় উন্নয়নের সূচনা করা হয়। এই শ্রীমতখালী খালে পূর্বে এলাকার মানুষ নৌকা করে পারাপার হতো। কয়েক বছর আগে স্থানীয় লোকেরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে। এরপর গত বছর এই খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজের শেষ সময়ের দিকে নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্মমানের হওয়ার কারণে মাঝের পিলারটি দেবে যায়। ব্রিজটি দেবে যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজো ব্রিজটি পূননির্মাণ করার কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে এই ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায় এই নড়োবড়ো বাঁশের সাঁকোটিই। এই পথ ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ না থাকায় এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষদের।
হামিদপুর গ্রামের মো. নজরুল ইসলাম (৪৫), আনোয়ার হোসেন (৫০) সহ আরো অনেকে জানান, আমরা যে অবহেলিত ছিলাম আজো তাই রয়ে গেলাম। আমাদের ভাগ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্মমানের কাজের কারণে ব্রিজটি নির্মাণাধিন অবস্থায় পিলার দেবে যায়। অথচ ১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো ব্রিজটি পুনারায় নির্মাণের কোন প্রদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেন নি। জানি না আমাদের জীবন দশায় এই খালের ওপর ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা ভাগ্যে আছে কি না? তারা আরো জানান, যদি এই ব্রিজটি নির্মাণ করা দেরি হয় তাহলে আপাতত চলাচলের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে কর্তৃপক্ষ। একটি ব্রিজের অভাবের কারণে প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ মালামাল বহন করে কাছের কোন স্থানে স্থানান্তর করতে পারছে না। এতে ব্যবসায়িক কাজে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মিরাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও কাজ নিম্মমান হওয়ার কারণে উদ্বোধনের আগেই দেবে গেছে। এরপর থেকে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত আবেদন দিয়েছি তবুও এখনো কোন সমাধান হয় নি। বিকল্প একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্যেও কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান মিঞা বলেন, এই ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য সকল প্রস্তুতি শেষের দিকে। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ