রাণীনগরের ২০টি বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পায়নি কেউ

আপডেট: মে ১৩, ২০২৪, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


নওগাঁর রাণীনগরে চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। আগের পরীক্ষাগুলোতে যে সকল বিদ্যালয় জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতো ২০২৪ সালে সেই সকল প্রসিদ্ধ বিদ্যালয় থেকে এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা নেই বললেই চলে। অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। শিক্ষার্থীদের শাসন করতে না দেয়া, পাঠ্যবইয়ের চেয়ে মোবাইল ফোনের প্রতি বেশি আসক্তিসহ বিভিন্ন সমস্যাকে দুষছেন শিক্ষকরা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে ২০২৪ সালে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি যেগুলোর অধিকাংশই হচ্ছে উপজেলার প্রসিদ্ধ বিদ্যাপিঠ। দাখিল পর্যায়ের ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠান ও ভোকেশনাল (কারিগরি) পর্যায়ের ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাণীনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জিপিএ-৫ অর্জনে উপজেলায় প্রথম স্থানে রয়েছে। এই বিদ্যাপিঠ থেকে এবার ১৪৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৩৩ জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন আর দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়।

এবার এই বিদ্যাপিঠ থেকে ১১৯ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১০১ জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাণীনগর পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এবার এই বিদ্যাপিঠ থেকে ১০২ জনের মধ্যে পাশ করেছে ৯৮জন আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫জন। আর শতভাগ পাশের হার অর্জন করেছে শফিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলার প্রসিদ্ধ বিদ্যাপিঠ কামতা সত্যেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৪জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৭জন আর জিপিএ-৫ নেই, উপজেলার বিতর্কিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৯জনের মধ্যে পাশ করেছে ৩৩জন আর জিপিএ-৫ নেই, মালশন গিরিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৪জনের মধ্যে পাশ করেছে ৩০জন আর প্রতিবছর জিপিএ-৫ পেলেও এবার নেই, গোনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৯জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৮জন আর জিপিএ-৫ নেই, বিশিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪০জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৩জন আর জিপিএ-৫ নেই, মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪২জনের মধ্যে ৪১জন পাশ করলেও এবার কেউ জিপিএ-৫ পায়নি, দেউলিয়া মানিকহার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৬জনের মধ্যে ১৯জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই, কনৌজ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২জনের মধ্যে ১১জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই, কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৭জনের মধ্যে ২৯জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই ও ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭০জনের মধ্যে ৫২জন পাশ করলেও এবার জিপিএ-৫ পায়নি কেউ।

ভোকেশনাল (কারিগরি) পর্যায়ে কামতা সত্যেন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮জনের মধ্যে ১১জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই, উপজেলার প্রসিদ্ধ বিদ্যাপিঠ পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২জনের মধ্যে ২৯জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই, গহেলাপুর নবাব মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫জনের মধ্যে ২১জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই ও শফিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩০জনের মধ্যে ২৭জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ নেই।

দাখিল পর্যায়ে উপজেলার ৭টি মাদ্রাসার মধ্যে শুধুমাত্র ভেটি সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩০জনের মধ্যে ১৯জন পাশ করলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। এছাড়া উপজেলার বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান আল আমীন দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৪জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৭ জন আর জিপিএ-৫ নেই এবং আবাদপুকুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯ জনের মধ্যে পাশ করেছে মাত্র ৩ জন আর জিপিএ-৫ নেই।

মধুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (সাতবারের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক) মো. আব্দুল গফুর প্রাং বলেন তার স্কুলের এবারের এসএসসি ব্যাচটি ছিলো খুবই দুর্বল। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শাসন করা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে কোন শিক্ষার্থী অমনোযোগী হলে ও বাড়ি থেকে পাঠ তৈরি না করে স্কুলে আসলে শাসন করার কোন অধিকার শিক্ষকদের না থাকার প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে।

শিক্ষার্থীদের শাসন করলেই অভিভাবকদের হাতে শিক্ষকদের অপমানিত হতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা চলে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো। গ্রামের অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের তেমন একটা খোঁজখবর রাখেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পর পাঠ্য বইয়ের চেয়ে মোবাইলে প্রতি বেশি আসক্ত থাকে। এই রকম নানা কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা মানসম্মত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন বিগত সময়ের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এবার কঠোর নিয়ম আর সুস্থ্য পরিবেশের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা একটু কমলেও পাশের হার অনেকটাই মানসম্মত রয়েছে।

এবারের গ্রহণ করা পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা উপজেলার শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি যে অবশ্যই পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পড়ালেখা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসতে হবে। তাই আগামীতে নিশ্চয় এই ফলাফল আরো ভালো হবে বলে আমি আশাবাদি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ