রাণীনগরে ইটভাটার নির্গত গ্যাসে চল্লিশ বিঘা জমিতে ধানের বদলে চিটা

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


রাণীনগরে দুই ইটভাটার চিমনির নির্গত গ্যাস বিস্ফোরণে প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির ধানসহ অন্যান ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এর ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে কৃষক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একদিকে জমিতে ধানের বদলে চিটা অন্যদিকে পাওয়া হচ্ছে না ক্ষতিপূরণ। ফলে হতাশায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চকাদিন-চককুতুব এলাকার আবাসিক এলাকায় রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পাশে চকাদিন-চককুতুব এতিমখানা ও মাদ্রাসা এবং জনবসতিসহ ফসলি জমির মধ্যে গত দুই বছর থেকে মোর ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা জোর করে এই সব নিষিদ্ধ স্থানে ভাটা তৈরি করে পরিবেশ নষ্ট করছে। এদিকে মোর ব্রিকস ভাটার (ভ্যাকুয়াম/কানেকটিং) গ্যাস হঠাৎ খুব জোরে চিমনি দিয়ে নির্গত হতে থাকে। সরকারি বিধি মোতাবেক ভাটার চিমনির উচ্চতা ১২৫ ফিট হওয়ার কথা হলেও এই ভাটার চিমনির উচ্চতা অর্ধেক। যার কারণে ক্ষতির পরিমাণটা অনেক বেশি বলে স্থানীয়দের ধারণা। নির্গত গ্যসের চাপে ও আগুনে আশপাশের প্রায় চল্লিশ বিঘা জমির  বোরো ধান নষ্ট হয়ে চিটায় পরিণত হয়েছে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে ভাটামালিক কিছু কিছু কৃষকদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করলেও অধিকাংশ কৃষক এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পান নি। পাশাপাশি দুইটি ইটভাটা থাকার কারণে দুই মালিকই একে অপরকে দুষলেও নিজের ইটভাটা দ্বারা ক্ষতির কথা স্বীকার করছেন না। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন মোর ব্রিকস ইটভাটার কারণেই তাদের এমন ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া ইটভাটার আশেপাশের ধানসহ সব ফসলি জমি, কিন্তু আইন উপেক্ষা করে ইটভাটাটি জোর করে চালানো হচ্ছে। এটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা ।
চকমুনু গ্রামের কৃষক আসমাইল হোসেন জানান, এই মোর ব্রিকস ইটভাটার ধোয়ার কারণে আমার দুই বিঘা জমির ধান সম্পূর্ণ চিটা হয়েছে। তারা আমাকে কোন প্রকারের ক্ষতিপূরণ দেয় নি। তাহলে আমি এখন কোথায় যাবো?
চককুতুব গ্রামের মুহিম হোসেন, নজরুল ইসলাম ও মোহসিন জানান, আমাদের জমির ধান এই ভাটার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। অথচ ভাটা মালিক বলছেন তাদের ভাটার কারণে আমাদের জমির ধান নষ্ট হয় নি। তাহলে আমরা কোথায় যাবো।
চকাদিন-চককুতুব মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুফতি আবদুর রউফ জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ভাটা তৈরি না হওয়ার জন্য প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দিয়েছিলাম। তাতে কোন লাভ হয় নি। সারাক্ষণ ধূলাবালি উড়ার কারণে আমার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলতে গেলে সব সময় অসুস্থ্যই থাকে। ভাটার মালিক প্রভাবশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে করার কিছু নেই।
ভাটার মালিক (পার্টনার) জাহিদ হাসান জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছি। আর যাদের জমির ধান আমার ভাটার কারণে নষ্ট হয় নি তাদেরকে তো আমরা ক্ষতি পূরণ দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। পাশে আরো একটি ভাটা আছে হয়তো সেই ভাটার কারণে নষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে, পাশের বাংলাদেশ ব্রিকস কোম্পানির ভাটার মালিক সাইদুর রহমান জানান, আমার ভাটার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। যেসব কৃষকরা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের জমি মোর ব্রিকস ভাটার আওতায়। তাদের জমির ধান ক্ষতিগস্ত হয়েছে মোর ইটভাটার দ্বারা। আমার ভাটার জন্য নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ