রাণীনগরে উপজেলা নির্বাচনে টাকা বিতরণ, মুচলেখা দিয়ে রক্ষা পেলো প্রার্থীর লোক

আপডেট: মে ১৭, ২০২৪, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


আগামী ২৯মে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকারী প্রার্থী রুমা বেগমের পক্ষে প্রকাশে টাকা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের জামালগঞ্জ মোড়ে নির্বাচনী পোস্টার লাগানোর সময় প্রকাশ্যে স্থানীয় মেম্বার আজাহার উদ্দিনের কাছে টাকা দেয়ার সময় প্রার্থীর ভাসুর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে মন্টু হোসেনকে আটক করে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীকারী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পরে আটক মন্টুকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট হস্তান্তর করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম মুচলেখা নিয়ে মন্টুসহ অন্যদের এবং আটক করা নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনায় অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীকারী প্রার্থীরা একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর।

অভিযুক্ত মন্টু বলেন তার একটি ভেকু মেশিন আছে। তিনি মাটির কাটা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এদিন তিনি ভাই বউ রুমার নির্বাচনী প্রচার কাজ করার সময় ওই এলাকায় গিয়ে আজাহার মেম্বারকে ভেকু মেশিনের তেলের বকেয়া টাকা হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের লোকজন গিয়ে তাকে আটক করে। নির্বাচন বিষয়ে কোন টাকা তিনি মেম্বারকে দেননি।
প্রার্থী রুমা বেগমের স্বামী ঝন্টু ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান এমন বিষয় সম্পূন্ন মিথ্যে ও বানোয়াট। নির্বাচনের মাঠে আমার স্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীকারী প্রার্থীরা ষড়যন্ত্র করে এমন ঘটনার সৃষ্টি করেছে। আমি এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

প্রতিদ্বন্দ্বীকারী প্রার্থী ফরিদা বেগম বলেন রুমা বেগমের স্বামীর অনেক অবৈধ টাকা রয়েছে। তাই তারা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই টাকা ছিটিয়ে আসছে। আমরা এমন ঘটনার অপেক্ষায় ছিলাম। এই বিষয়ে আমরা অন্যান্য চারজন প্রার্থী রুমা বেগমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা রাখি প্রশাসন এমন জঘন্য ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম বলেন এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে মুচলেখা নিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে যদি এমন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।