রাণীনগরে কৃষি বান্ধব ধৈঞ্চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


রাণীনগরে কৃষক সমাবেশ ও ধৈঞ্চা চাষের উপর মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষক ও কৃষিসম্প্রসারণ দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ -সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরে দিন দিন ফসলী জমিতে কৃষি বান্ধব ধৈঞ্চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এই ধৈঞ্চা ফসলি জমির উর্বরা শক্তি ও সবুজ সার হিসেবে ব্যবহারের প্রতি কৃষকরা ঝুঁকছেন। কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকরা জানতে পারছেন এই ধৈঞ্চা চাষের উপকারিতা সম্পর্কে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজ সার ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারিত ধৈঞ্চা জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি ও লাভজনক হওয়ায় এ বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিগত দিনের তুলনায় বেশি পরিমাণ ধৈঞ্চা চাষ হয়েছে। ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ায় রাসায়নিক সার কমিয়ে এই এলাকায় গত দুই বছর ধরে জৈষ্ঠ্য মাসে বোরো ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে ধৈঞ্চার বীজ ছিটিয়ে দুই থেকে তিন হাত লম্বা হওয়ার পরেই কৃষকরা কলের লাঙ্গল দিয়ে জমিতেই চাষ দিয়ে তা পঁচিয়ে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করছেন। দেখতে কিছুটা সোনালী আঁশ পাটের মত হলেও আগে এই এলাকায় ধৈঞ্চার ব্যবহার শুধু জ্বালানি কাজেই বেশি হতো। আগে এলাকায় উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় ও বিক্রি মূল্য ভাল পাওয়ায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের পাশাপাশি স্বল্প পরিমান হলেও স্থানীয় কৃষকরা ধৈঞ্চা চাষ করতেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষকরা গত বছর ধৈঞ্চার ভাল দাম পাওয়ায় এবছর ধৈঞ্চা চাষের ব্যাপকতা আরোও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খড়িপ-২ মৌসুমে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করা হয়েছে। বিগত বছরে ধৈঞ্চার ভাল ফলন এবং চাষযোগ্য জমিতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করে ধানের আশানুরুপ ফলন পাওয়ায় এলাকার চাষিরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ধৈঞ্চা চাষ করছে। এক বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষে মাত্র ৮শ’ টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমির ধৈঞ্চা প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে চাষিরা জানান। রাসায়নিক সার ব্যবহার কমিয়ে ধৈঞ্চা চাষে কৃষকদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে রাণীনগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার ছয়বারিয়া, বগারবাড়ি, পারইল, কুজাইল গ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় লাইভ পাচিং হিসেবে আফ্রিকান ধৈঞ্চা চাষ ও ব্যবহার বিষয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে কৃষি অফিস।
ছয়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক এনামুল হক জানান, তিনি পূর্বে এই ধৈঞ্চার উপকারিতা সম্পর্কে জানতেন না। তাই এবার কৃষি অফিসের সহায়তায় তিনি প্রতিটি জমিতে সবুজ সার হিসেবে ব্যবহারের লক্ষে প্রায় ৬ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ করেছেন।
বগাড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি অনেক দিন ধরেই ফসলি জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ করে তা জৈব সার হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে তার জমিতে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক গুন। আগের মতো জমিতে তার আর রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। এতে খরচও অনেক কম পড়ছে।
গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বগারবাড়ি গ্রামে কৃষকদের ধৈঞ্চা চাষ ও এর উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষে এক কৃষক সমাবেশ ও ধৈঞ্চা চাষের উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সবুজ কুমার সাহা, উপ-সহকারি আজমা সুলতানা প্রমুখ।