রাণীনগরে জলাবদ্ধতায় বেহাল দশা ত্রিমোহনী হাট

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি


রাণীনগরে ত্রিমোহনী হাটের প্রবেশ মুখে এভাবেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরে দুই নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী হাট ত্রিমোহনী। হাট বারের দিনে ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত হাটুরেদের ব্যাপক সমাগম ও কেনাবেচা হলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগে নি এই হাটে। অথচ সরকার প্রতি বছর এই হাট থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে আয় করছে।
কোন সংস্কার না হওয়ায় হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি নামলেই হাটের প্রবেশ পথেই ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যার কারণে হাটে আসা সর্বস্তরের জনসাধারণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কয়েক দিনের বৈরি আবহাওয়ার কারণে লাগাতার বৃষ্টিপাতে হাটের প্রবেশপথে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ যেন অভিভাবকহীন এক হাট যা দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁর ছোট যুমনা (আত্রাই নদী) নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ত্রিমোহনী হাট। রাণীনগরের কয়েকটি হাটের মধ্যে এই হাটটি দ্বিতীয় বৃহত্তম। সপ্তায় দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার ভোর থেকে এই হাটে ধান, চাল, মাদুর, কাঁচা তরি-তরকারি, বন ও জলপাতি (মাদুর তৈরির উপকরণ), হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন ধরণের আসবাবপত্র বেচাকেনা চলে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এই হাটে আসেন বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য।
প্রতি বছর এই হাটটি প্রায় ৬০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হলেও রাজস্ব আদায়ের সাথে পাল্লা দিয়ে হাটের তেমন কোন উন্নয়ন করা হয় নি। দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিপাত হলেই হাটের চার পাশের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। চাহিদা মতো আধুনিক মানসম্মত শেড না থাকায় হাটে আসা হাটুরেরা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে প্রয়োজনীয় বেচাকেনার কাজ করতে বাধ্য হন। প্রতি বছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে লাগাতার বৃষ্টির কারণে দুর্ভোগের মাত্রা আরোও বৃদ্ধি পায়। এই হাটে সব চাইতে বেশি বেচাকেনা হয় গরু-ছাগল ও মাদুর। অথচ এখানে মাথার উপর কোন ছাউনি নেই বললেই চলে।
হাটুরেদের দাবি, প্রতি হাটবারের দিনে হাট ইজারা কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে যে পরিমাণের খাজনা আদায় করে, তার বিনিময়ে আমরা কোন সুযোগ-সুবিধা পাই না। বরং মালপত্র কিনে নিরাপদ স্থানে রাখার মতো জায়গা নেই এই হাটে। অনেক সময় বৃষ্টি-বাদলের কারণে মালপত্র পানিতে ভিজে অনেক ক্ষতি হয়। হাটের পাশেই রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চবিদ্যালয়। এই দুই স্কুলে প্রায় ছয়শো মতো ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা করে। বর্ষার সময় এই সড়কে হাটু পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণদের প্রতিনিয়ত চলাচলে বহুমাত্রিক দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ত্রিমোহনী হাটের ইজারাদার বেদারুল ইসলাম জানান, এই হাটে প্রতিবছর অনেক টাকা রাজস্ব আদায় হলেও হাটে আসা লোকজনদের ও হাটের অভ্যন্তরীন রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে হাটের প্রবেশ মুখে দুই পাশে কিছু অবৈধ স্থাপনা ও দোকান নির্মাণ করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টির কারণে জনসাধারণদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
দুই নম্বর কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বাবু জানান, এই হাটে প্রতি বছরই কিছু না কিছু উন্নয়ন মূলক কাজ করা হয়। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। হাটের প্রবেশ মুখের রাস্তার কাজ করা হলেও পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুযোগ করে না দেওয়ায় বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকার কারণে এই সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে আগামী শুষ্ক মৌসুমে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া স্বাপেক্ষে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে উপযুক্ত প্রদক্ষেপ হাতে নেয়া হবে।