রাণীনগরে টিকা গ্রহণে সাড়া দিচ্ছে না প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ২:৪২ অপরাহ্ণ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


সারা দেশের মতো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এই উপজেলায় প্রথম দফায় টিকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫হাজার ৯৭০ডোজ। সোমবার পর্যন্ত আবেদন পড়েছে ৩ হাজার ২৮৫টি, আর টিকা গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ৫৮৮জন। স্বাস্থ্য সেবাদানকারী, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক সমাজ ও সচেতনমহলের মানুষরা আগ্রহ ভরে এই টিকা গ্রহণ করলেও সাড়া মিলছে না প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের কাছ থেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মাকসুদুর রহমান সনি বলেন, জেলায় প্রথম এই হাসপাতালের এক সেবিকা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এরপর এখন পর্যন্ত ৬৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৭ জন আর মারা গেছেন ১ জন। মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৭৯টি। টিকাদানের শুরুতে মানুষের মাঝে তেমন আগ্রহ দেখা না গেলেও বর্তমানে সুশীল সমাজের মানুষ আগ্রহ ভরে টিকাগ্রহণ করছেন কিন্তু সচেতনতার অভাবে সাড়া মিলছে না প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মাঝে। সচেতনতা ও প্রচার-প্রচারনার অভাবে এই সব মানুষরা টিকা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে এখনো ওয়াকিবহাল নন। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডভিত্তিক সদস্যরা, শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা, মসজিদের ইমামরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। টিকা গ্রহণের জন্য কোথায় গিয়ে কিভাবে আবেদন করতে হবে সেই ক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ দেশের প্রত্যন্ত এলাকার খেটে-খাওয়া, হত-দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া সিংহ ভাগ মানুষদের করোনা ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের কর্মসূচির বাহিরে রেখে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কর্মসূচি কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে তা অনেকটাই অনিশ্চিত।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল মিরাট ইউনিয়নের ধনপাড়া গ্রামের মধ্যবয়স্ক দিনমজুর ফজলুর রহমান, কলিম উদ্দিন মানুষের মুখে শোনার পর করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে হাসপাতালে এসেছেন। হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে তারা হাসপাতাল ঘুরছেন। কোথায় কিভাবে আবেদন করে করোনা টিকা নিতে হবে তা তাদের অজানা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১টি কেন্দ্রের ৩টি বুথের মাধ্যমে এই টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩ শতাধিক মানুষ করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করছেন। প্রতিদিনই এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উপজেলায় টিকা গ্রহণের উপযুক্ত জনসংখ্যা হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ কিন্তু এখন পর্যন্ত ৬ হাজার আবেদনই পড়েনি। সচেতনমহল ও সুশিল সমাজের মানুষই এই টিকা বেশি গ্রহণ করছেন। প্রত্যন্ত এলাকার খেটে-খাওয়া, পিছিয়ে পড়া ও হত-দরিদ্ররা টিকা গ্রহণ করছে না বললেই চলে। স্বাস্থ্যকর্মীরা যে মানুষদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন তারা শুধুমাত্র টিকা গ্রহণ করছেন। টিকা গ্রহণের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম অনেক জটিল হওয়ার কারণে এই মানুষরা আগ্রহী নন। তাই ইউনিয়ন ভিত্তিক তথ্যসেবা দান কেন্দ্রগুলো থেকে যদি এই সব মানুষদের টিকা গ্রহণের রেজিস্ট্রেশন করার সুবিধা প্রদান করা হতো এবং গ্রাম ভিত্তিক সচেতনামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে টিকা গ্রহণে গ্রামভিত্তিক মানুষদের আগ্রহ আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ