রাণীনগরে বন্যায় ক্ষতি শতাধিক কোটি টাকা || ক্ষতি বেশি কৃষিতে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

আবদুর রউফ রিপন, রাণীনগর


রাণীনগরে সম্প্রতি বন্যায় শত শত পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় এভাবেই রক্ষার চেষ্টা করেন চাষিরা-সোনার দেশ

সম্প্রতি একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর আত্রাই (ছোট যমুনা) নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্টি হয় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা। রাণীনগর উপজেলার বেড়ীবাঁধের ২ স্থানে ভেঙে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এতে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অপরদিকে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। এই বন্যার ফলে মোট ১০৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার শুরু থেকে প্রায় ১মাস পার হলেও এখনো মাঠের ফসল বন্যার পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। তবে বন্যার পানি ধীর গতিতে নামার কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো দ্বিগুন হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা, উপজেলার মোট ২০ হাজার ৯শ ৯৫ একর জমির বিভিন্ন রকমের ফসল বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ও জেগে ওঠা ফসলের খেতে কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে কৃষকরা আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেছে। বন্যার কারণে উপজেলায় কৃষি ক্ষেত্রে মোট ক্ষতি হয়েছে ১শ ৩কোটি ১২লাখ ২৫ হাজার টাকা।
বন্যায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ক্ষেত্রে মোট ক্ষতি হয়েছে ১৪লাখ ৯৪হাজার টাকা। ২৮টি মৎস্য খামার ও ২৩৫টি পুকুর-জলাশয়ের বিভিন্ন প্রকারের ছোট-বড় মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। মৎস্য ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে ৪কোটি ২৫ লাখ টাকা। এতে করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও মৎস্য চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় উপজেলার প্রায় ১১কিলোমিটার কাঁচা ও ৪কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ৬কিলোমিটার বাঁধ নষ্ট হয়ে গেছে ও প্রায় ১১কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় গোনা ইউনিয়নের বেতগারী থেকে নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কের ৩টি স্থানে ভেঙে গিয়ে প্রবেশ করে বন্যার পানি আর তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। উপজেলার গোনা, মিরাট, কাশিমপুর ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোনা ইউনিয়নের ঘোষগ্রাম ও কৃষ্ণপুর গ্রামের বেড়ীবাঁধ ভেঙে গিয়ে গোনা, ঘোষগ্রাম, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি গ্রামসহ উপজেলার প্রায় ৫৮টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, ফসলের মাঠে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় থাকার কারণে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুন হয়েছে। তবুও আমরা কৃষকদের বন্যা পরবর্তি কোন কোন ফসল চাষ করতে হবে এবং কেমন করে অল্প সময়ে কোন ফসলের আবাদ করলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায় তার পরামর্শ প্রদান করেছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, আমরা বন্যায় মোট ক্ষতির একটি তালিকা করে তা সরকারের বিভিন্ন দফতরে প্রেরণ করেছি। বন্যার্তদের মাঝে সরকারি ভাবে বিভিন্ন অনুদান প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তবে বরাদ্দ এলেই আমরা বন্যা দুর্গত এলাকায় পুর্নবাসনের কাজ শুরু করবো।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান প্রদান করা হয়েছে এবং তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে বরাদ্দ এলেই বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক ভাবে সহায়তা করা হবে এবং পুর্নবাসনের কাজ শুরু হবে।