রাণীনগরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ ।। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

রাণীনগর প্রতিনিধি



নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে উফশী জাতের ২ হাজার ৯শ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন শুধুই হলুদের সমারোহ। দৃষ্টি জুড়ে সরিষার ফুলের হলুদ গাঁদার চিঠি। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌ মাছিরা। মৌ মৌ শব্দে পুরো মাঠ মুখরিত।
কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোর ধানের জমিতে আগাম এই ফসলের চাষ করেছেন। এবারে কৃষকরা সরিষার উচ্চ ফলনশীল জাত হিসাবে উফশী, টলি ৭ ও সম্পদ এই তিন জাতের সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার সরিষা চাষিরা।
এ বিষয়ে হরিশপুর গ্রামের কৃষক হাসেন সরদার জানান, মূল্য কম হওয়াই ধানের চাষ করে প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। গত বছরের বোরো ধান এখনো অনেক কৃষকের ঘরে মজুত রয়েছে। তাই বিকল্প পথ হিসাবে অন্য ফসলের মধ্য তিনি সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
গোনা গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, এ মৌসুমে ধান চাষের উপযুক্ত ১০ বিঘা জমিতে তিনি সরিষার আবাদ করছেন। সরিষা তুলে নিয়ে ওই সব জমিতে তিনি বোরো ধান রোপণ করবেন। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় বোরো ধান উৎপাদনে সহায়তা পাবেন বলে তিনি দাবি করেন।
পশ্চিম বালুভরা গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ জানান, সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এলাকার কৃষকরা আগাম জাতের সরিষা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। এছাড়াও সরিষা উৎপাদনে সার কম প্রয়োগ করতে হয়, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা পাবেন বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরো জানান, এবারে প্রতি বিঘায় সরিষার পরিমাণ ৬ মণ হারে ধরা হয়েছে। সরিষার বিভিন্ন রোগ-বালাই কৃষকদের করণীয় ও তা থেকে সরিষার আবাদ রক্ষার কৌশল  সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ