রাতের আঁধারে ছিন্নমূল শীতার্তদের মাঝে পুলিশ কমিশনারের কম্বল বিতরণ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে তীব্র শীত পড়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন প্রচন্ড শীতে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো শীতে কাতরাচ্ছেন। সেই মানুষগুলোর কষ্ট লাঘব করার উদ্দেশ্যে ছিন্নমূল শীতার্তদের গায়ে উষ্ণ কম্বল জড়িয়ে দেন আরএমপি পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত এয়ারপোর্ট থানার বায়া বাজার, ভোলাবাড়ি, দৌলতপুর, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড়, বারইপাড়ার মোড়, বিমানবন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি।

পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, এই মৌসূমে রাজশাহীতে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা দিন দিন বেড়ে চলছে। প্রচন্ড শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল হতদরিদ্ররা। রাস্তার ধারে শুয়ে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলো খুবই অসহায়। অনেকজন বাড়িঘর হারা। এ শীতে তাদের ভীষণ কষ্ট।

একটা কম্বলের আশায় তারা এখানে সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছে। মূলত রাতের অন্ধকারে প্রকৃত ছিন্নমূল মানুষের দেখা পাওয়া যায়। তাই রাতের আধারে কম্বল নিয়ে প্রকৃত দুস্থ শীতার্তদের খুঁজে বের করে বিতরণ করা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার আরো জানান, এবারের শীত আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমন ভয়াবহ শীতের রাতেও জবুথবু হয়ে রাস্তার ধারে, ফুটপাতে ঘুমাতে হয় গৃহহীন মানুষদের। কেউ শীতবস্ত্রের কারণে ঠান্ডায় থাকুক এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চায় না।

তাই আইজিপি মহোদয়ের নির্দেশনায় সড়কের পাশে থাকা ছিন্নমূল শীতার্তদের খুঁজে বের করে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসময় পুলিশ কমিশনারের সাথে উপস্থিত ছিলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) মো. নূরে আলম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিওএম) সুকুমার মোহন্ত, এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

বায়া বাজারের নাইট গার্ড কম্বল পেয়ে বলেন, শীতের মধ্যে ডিউটি করতে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো। এখন সে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। শীতের রাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে, তখন গায়ে উষ্ণ কম্বল জড়িয়ে দিলেন স্যার। মহান আল্লাহতালার কাছে স্যারের জন্য দোয়া করি।

পুলিশ কমিশনারের হাত থেকে কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ছিন্নমূল মানুষদের।

বারইপাড়ার মোড়ের ছিন্নমূল আজিজুল নামে এক সুবিধাভোগী জানান, সারাদিন ভিক্ষা করার পর রাস্তার পাশে কাপড় মুড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। বেশি ঠাণ্ডা পড়লে কোন একটি ছাদের নিচে শুয়ে পড়ি। আজকে কম্বল পাওয়ার পর খুব ভালো লাগছে। স্যারের জন্য দোয়া করি।

শরীরে একটি মাত্র পাতলা কাপড় জড়িয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভোলাবাড়ি এলাকায় সড়কের পাশে শুয়ে থাকা ছিন্নমুল সুবিধাভোগী বলেন, কোনমতে কাপড় জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করি। এই মাত্র পুলিশ স্যার যে কম্বল দিলেন, তাতে মোটামুটি শীত কাটবে। আমি স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

কম্বল পেয়ে বায়া বাজার যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল সুবিধাভোগী বলেন, রাতে শীতের কারণে ঘুমাতে পারছিলাম না। এমন সময় পুলিশ কমিশনার স্যার কম্বল দেন তাতে আমি খুশি হয়েছি। আমার মত সকল ছিন্নমূলদে এভাবে কম্বল দিলে তাদের শীতের কষ্ট কিছুটা কমবে।