রাত ৮টার পর সুনশান নগরী দোকনপাট বন্ধে তৎপর প্রশাসন, অমান্যকারীদের জরিমানা

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২২, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

হাসান পলাশ:


রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় শনিবার রাত ৮ টার পর থেকে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট ও লক্ষীপুর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করতে দেখা গেছে। নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই রাত ৮টার নগরী সুনশান হয়ে পড়ে। রাস্তায় লোক চলাচল কমে আসে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে নগরবাসীকে সতর্ক করছিল। প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখার দায়ে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবিহা সুলতানা সোনার দেশকে জানান, সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা এবং রাত ৮ টার পর দোকান খোলা রাখার দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রাতের বিধিনিষেধের কার্যকারিতা নিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আসলে ফলপ্রসূর বিষয়টি নির্ভর করে সবার সহযোগিতার ওপর। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে একটা কমিউনিটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সবাই সহায়তা করলে নিশ্চয় ফল পাওয়া যাবে।’ ‘সংক্রমণের তুলনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার অনেক কম। কিন্তু একটা জেলায় ৭১ পার্সেন্ট সংক্রমণের হার, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আমরা খুবই উদ্বেগের সঙ্গেই বিষয়টাকে নিয়েছি এবং মনিটরিং করছি। সে জন্য দিনের বেলায় সরকারের অন্যান্য বিধিনিষেধের পাশাপাশি রাতের জন্য স্থানীয়ভাবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আমরা চাই না লকডাউনের মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক।’

বিধি-নিষেধ জোরদারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল আরো বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে দিনেও মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি ভালভাবে মনিটরিং করা হবে বলে। পাশাপাশি আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে শহর এবং গ্রামে এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করা হবে।

জেলা পর্যায়ের করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক এই বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের দিনের অন্য বিধিনিষেধগুলো চলমান। রাতের বিধিনিষেধ অতিরিক্ত। দিনে মার্কেটে কেউ গেলে যেন তার মুখে মাস্ক থাকে এটা নিশ্চিত করবে প্রশাসন। শহরে কিংবা গ্রামের মোড়ে মোড়ে রাতে যেন আর আড্ডা না বসে সেই কারণেই এই বিধিনিষেধ।’

এ বিষয়ে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই জেলা প্রশাসনের বিধি-নিষেধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যবসায় সমন্বয় পরিষদ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহার ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে সকল ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে রাত আটটার পরে দোকান বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের সাথে আমরা একযোগে কাজ করতে চাই বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ