রাবিতে ‘অবৈধ’ নিয়োগ: চাকরি স্থায়ীকরণে শঙ্কা!

আপডেট: মে ৭, ২০২১, ৯:৩০ অপরাহ্ণ

ওয়াসিফ রিয়াদ, রাবি:


শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ দিনে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। অস্থায়ী ভিত্তিতে বিভিন্ন পদে এই নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এরপরই বিকেলে শিক্ষামন্ত্রণালয় এই নিয়োগ বৈধ নয় উল্লেখ করে নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় প্রশাসনিক নিয়োগ দানে তাকে নিষেধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিদায় বেলায় উপাচার্য বিভিন্ন পদে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগদানের বৈধতা নেই।’ এঘটনায় তদন্তে গঠন করা হয়েছে ৪ সদস্যের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগে জড়িতদের চিহ্নিত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রাণালয়ের এমন ঘোষণার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না নিয়োগপ্রাপ্তরা।
নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা জানান, ‘চাকরির জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। চাকরি হয়েছে তবে এর নিশ্চয়তা না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না তারা। তারা বলছেন- শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এতে চাকরি নিয়ে আশা করি না। এছাড়াও আমাদের মত অনেকেরই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হয়নি। এতে করে অনেকেই চাকরিতে যোগদান করেন নি। এসব নিয়ে হতাশা কাজ করছে।’
চাকরি পাওয়া ছাত্রলীগের সাবেক আরেক এক নেতা বলেন, তাঁরা এখন যেভাবেই হোক চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের এখন কাজ হচ্ছে চাকরিকে স্থায়ী করা। এটা তাঁদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সামনে কে উপাচার্য হবেন, কোন প্রশাসন ক্ষমতায় আসে, তার ওপর নির্ভর করছে মূলত তাঁদের চাকরি। আপাতত তাঁরা চাকরি পাওয়ার আনন্দে থাকলেও ভেতরে চাপা কষ্ট রয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বিদায় বেলায় বিভিন্ন পদে অস্থায়ী (এডহক) ভিত্তিতে ১৪১ জনকে নিয়োগ দেন। নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোয় উপাচার্য রেজিস্ট্রার আবদুস সালামকে অব্যাহতি দেন বলে জানা যায়। পরে তার স্থলে পরিষদ সেকশনের সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দায়িত্ব দিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেন বলে জানা গেছে।
বিশ^বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মামুন-উর-রশিদ স্বাক্ষরে ৯ জন শিক্ষক, ২৩ জন সেকশন অফিসার, ২৪ সহায়ক কর্মচারী এবং ৮৫ জন উচ্চ ও নি¤œ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তান, স্ত্রী ও স্বজন, ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান ৪৩ নেতা-কর্মী, রয়েছে চার জন সাংবাদিক নেতা।
নিয়োগের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপ-রেজিস্ট্রার মো. মখলেছুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যলয়ে অ্যাডহকে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সময় শুরু হয় সংশ্লিষ্ট পদে যোগদানের দিন থেকে। ছয় মাস পর যদি ওই ব্যক্তি আবার চাকরি করতে চান, তখন তাঁকে বিশ্ববিদ্যলয়ে আবেদন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যলয় বিবেচনা করলে পুনরায় ছয় মাস বাড়বে, অন্যথায় চাকরি চলে যাবে।’
এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম বলেন, ‘নতুন করে রেজিস্ট্রার নিয়োগের তথ্যটি সঠিক নয়। আমাকে নানা ভাবে অনৈতিক চাপ প্রদান করা হয়েছিল। তাই আমি নিজেকে আত্মগোপনে রেখেছিলাম। নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ নিয়োগ। এই নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে। যেহেতু এটি একটি অবৈধ নিয়োগ সেহেতু কথাকথিত নিয়োগপ্রাপ্তদের কেউই চাকরিতে যোগদান করতে পারবেন না।’
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ৭ মে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান এম আব্দুস সোবহান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যোগ্যতা শিথিল করে মেয়ে-জামাতাকে নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গত বছর ইউজিসির তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরণের নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। তবে শেষ দিনে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে ১৪১ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেলেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান।