রাবিতে তিন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও মারধর, সাংবাদিকদের অবস্থান

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিনিধি:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত তিন সাংবাদিক ছাত্রলীগ কর্মিদেও দ্বারা মারধর এবং লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় কালো ব্যাজ ধারণ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ক্যাম্পাসে কর্মরত তিন সাংবাদিক সংগঠনের সংবাদকর্মীরা।

রোববার (০৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় মৌন মিছিল এবং সাড়ে ১২টায় অভিযুক্তদের বিচারসহ ৩ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আশ্বাসে পৌনে ৩টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করেন সংবাদকর্মীরা।

সংবাদকর্মীদের দাবিগুলো হল- অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন কাজলসহ তার দুই সহযোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা, দায়িত্বে অবহেলার জন্য মাদার বখ্শ হল প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়া এবং হলে হলে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অবস্থান কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিফ রিয়াদের সঞ্চালনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এবং প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

তারা লাগামহীনভাবে সিট বাণিজ্য করাসহ একেরপর এক সাংবাদিকদের মারধর এবং লাঞ্ছিত করেই চলেছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের শাস্তির আওতায় আনার নামে সাংবাদিকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে। এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ তারা নেয়নি। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।’

বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছি। এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে আসলে সেটা শৃঙ্খলা কমিটিতে চলে যাবে।

আমরা তখন উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি আরও দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আমাদের হাতে অভিযোগপত্র এসেছে। আমরা খুব দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এর আগে, গত ২৯ মে রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখ্শ হলের টিভি রুমে শাহাবুদ্দিন নামের এক সাংবাদিককে মারধর করে গিয়াস উদ্দিন কাজল নামের এক ছাত্রলীগ নেতা।

এরপর গত ২ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক ওমর ফারুককে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরও আগে, গত ২১ মে লিজ ছাড়াই আমবাগান দখলের বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিক কথা বলতে গেলে সাংবাদিক লাবু হককে হেনস্তা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ