রাবিতে নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যে’র মানববন্ধন

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৯, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মানববন্ধনে ছাত্র শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সোনার দেশ

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিশ^বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৯দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে ‘নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-শিক্ষক ঐক্য রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়’র ব্যানারে মানববন্ধন করে তাঁরা।
শিক্ষকদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- ‘দায়িত্ব অবহেলার জন্য হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, ক্যম্পাসে কোন শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হলে মামলাসহ সকল ব্যয়ভার বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা, আবাসিক হলগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা, হলগুলোতে বৈধ সিট বণ্টন করা এবং হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হলে সিট বণ্টন ও আবাসনে কোন ছাত্র সংগঠনের হস্তক্ষেপের সুযোগ না দেয়া, হলে অবৈধভাবে বসবাসরতদের বের করে দেয়া, রাজনৈতিক মত ভিন্নতার কারণে কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারির সাথে অসদাচরণ না করা এবং তাদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়া।’
মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যে দাবি মেনে নেয়ার আশ^াস দেয়া হয়েছে তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন তারা জানে কারা এসব অপকর্ম করতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এসব ঘটনা দূর করা সম্ভব।
একই কথা বলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহমেদ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান উপকরণ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময় তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে। কিন্তু যারা করছে তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। সরকার বিরোধী কোন কর্মকা- ঘটলে প্রশাসন শক্ত হাতে তা দমন করেন। কিন্তু কোন শিক্ষার্থীর উপর হামলা করা হলে তখন আপনারা নিশ্চুপ ভুমিকা পালন করেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ে বীরত্ব দেখানোর অনেক জায়গা আছে। কে কতটুকু পড়তে পারে, পড়াতে পারে, গবেষণায় অবদান রাখতে পারে এগুলো নিয়ে বাহাদুরি করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা আজকাল বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে এসব বীরত্ব দেখতে পাই না।
এসময় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, সোহরাবের ঘটনায় হল প্রশাসনের দ্বায়িত্ব অবহেলা রয়েছে। আমরা বিশ^বিদ্যালয় থেকে নামধারী সন্ত্রাসীদের স্থায়ী বহিষ্কার চাই। এসব সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। নয়তো তারা আরও হিং¯্র হয়ে উঠবে।
আরবী বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা আফরীনা মামুন, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আখতার বানু পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ শামস্ বিন তারিক, একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান পাটোয়ারী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সিন্ডিকেট সদস্য মো. মনিরুর হক, ফিসারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. ইয়ামিন হোসেন প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ